ঝিনাইদহ কৃষক কার্ড

ঝিনাইদহে কৃষকের চাহিদামতো সার প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে চালু হচ্ছে ‘সার কার্ড’

ঝিনাইদহ প্রতিবেদক

Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!

কৃষকদের চাহিদা অনুযায়ী সার প্রাপ্তি নিশ্চিত করা এবং সারের অপচয় ও অতিরিক্ত ব্যবহার রোধে ঝিনাইদহে চালু হচ্ছে ‘সার কার্ড’ ব্যবস্থা। ইতোমধ্যে এ কার্ড চালুর লক্ষ্যে কৃষকদের প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ শুরু করেছে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর। পর্যায়ক্রমে জেলার সব কৃষককে এ ব্যবস্থার আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ মো. কামরুজ্জামান জানান, ফসলের ধরন ও আবাদি জমির পরিমাণ অনুযায়ী কী পরিমাণ সার ব্যবহার করতে হবে, সে বিষয়ে অনেক কৃষকের পর্যাপ্ত ধারণা নেই। ফলে অনেকেই প্রয়োজনের তুলনায় দ্বিগুণ সার প্রয়োগ করেন। আবার প্রচলিত ধারণা ও সনাতন পদ্ধতিতে অতিরিক্ত সার ব্যবহারের কারণে সারের সরবরাহ ব্যবস্থায়ও চাপ তৈরি হয়। এতে উৎপাদন খরচ বেড়ে যায় কৃষকদের।

এসব সমস্যা বিবেচনায় নিয়ে ফসলের উৎপাদন খরচ কমানো, সারের অপচয় রোধ এবং মাটির উর্বরতা ও গুণাগুণ ধরে রাখতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে জেলার বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি) ও বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশনের (বিসিআইসি) আওতাধীন সব সার ডিলারকে কৃষকদের সার কার্ড প্রস্তুতের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

নির্ধারিত এ কার্ডে প্রত্যেক কৃষকের জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর, ছবি ও আবাদযোগ্য জমির পরিমাণ উল্লেখ থাকবে। কার্ড দেখিয়ে কৃষকরা ডিলার ও সাব-ডিলারের বিক্রয়কেন্দ্র থেকে জমির পরিমাণ ও ফসলের ধরন অনুযায়ী নির্ধারিত পরিমাণ সার কিনতে পারবেন।

কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, সার কার্ডের মাধ্যমে একজন কৃষক তাঁর জমিতে কী পরিমাণ সার ব্যবহার করছেন, সে সম্পর্কে তথ্য সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে। বিশেষ করে প্রান্তিক কৃষকদের জমির পরিমাণ অনুযায়ী সার ব্যবহারের হিসাব রাখা যাবে। পাশাপাশি অতিরিক্ত সার কিনে তামাক কিংবা অননুমোদিত ফসলের আবাদে ব্যবহার করার প্রবণতাও নিয়ন্ত্রণ করা সহজ হবে।

ইতোমধ্যে ঝিনাইদহ সদর উপজেলায় এ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। ইউনিয়ন ও ব্লক পর্যায়ে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা কৃষকদের তথ্য সংগ্রহ করছেন। পর্যায়ক্রমে জেলার সব উপজেলায় এ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হবে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, সার কার্ডে ধান, গম, পেঁয়াজসহ বিভিন্ন ফসলের জন্য প্রতি বিঘা জমিতে কী পরিমাণ ইউরিয়া, টিএসপি, ডিএপি ও এমওপি সার ব্যবহার করা যাবে, সে বিষয়ে নির্দেশনা যুক্ত করা হয়েছে। প্রতিবার সার উত্তোলনের সময় কার্ডে সারের পরিমাণ, ফসলের নাম ও বিতরণের তারিখ লিখে রাখা হবে। এতে একজন কৃষক নির্ধারিত মাত্রার বেশি সার সংগ্রহ করতে পারবেন না।

চলতি আমন মৌসুমের শুরু থেকে ঝিনাইদহের কৃষকেরা চাহিদা অনুযায়ী সার পেয়েছেন। এতে এ মৌসুমে ধানের আবাদ লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়েছে। তবে জেলার অন্যান্য ফল ও ফসলের চাষিরা বিভিন্ন সময়ে চাহিদামতো সার না পাওয়ার অভিযোগ করে আসছিলেন। কৃষকদের এসব অভিযোগ বিবেচনায় নিয়েই সার কার্ড চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কৃষি বিভাগের কর্মকর্তাদের আশা, এ ব্যবস্থার মাধ্যমে সারের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার ও অবৈধ মজুত রোধের পাশাপাশি প্রকৃত কৃষকদের সার প্রাপ্তি নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

সদর উপজেলার কাশিমপুর গ্রামের কৃষক মেহেদী হাসান বলেন, তাঁদের এলাকায় ধান, কলা, ড্রাগন ফলসহ বিভিন্ন ধরনের ফসলের আবাদ হয়। ফসলের ধরন অনুযায়ী সারের চাহিদাও কমবেশি হয়। তিনি বলেন, “আমরা চাহিদামতো সার পেলেই খুশি। কিন্তু অনেক সময় কিছু কৃষক অতিরিক্ত সার নেওয়ার কারণে অন্যরা সার পান না। সার কার্ড চালু হওয়ায় এবার হয়তো এ ক্ষেত্রে শৃঙ্খলা ফিরবে।”

রামনগর গ্রামের কৃষক খানজাহান আলী বলেন, অনেকেই মনে করেন জমিতে বেশি সার দিলে ফসল ভালো হয়। কিন্তু এ ধারণা ঠিক নয়। জমির উর্বরতা, পরিবেশ ও ফসলের ধরন বিবেচনা করেই সার প্রয়োগ করতে হয়। অনেক কৃষক এখনো ধারণার ভিত্তিতে সার ব্যবহার করেন। তাঁর আশা, সার কার্ড চালু হলে কৃষকদের ভোগান্তি কমবে এবং সবাই প্রয়োজন অনুযায়ী সার পাবেন।

শৈলকুপা উপজেলার ত্রিবেনী ইউনিয়নের সার ডিলার জাফর মোল্লা বলেন, সার কার্ড চালু হলে কৃষকদের জমির পরিমাণ ও সার প্রয়োগের হার সম্পর্কে তথ্য পাওয়া যাবে। এসব তথ্য সংরক্ষণের মাধ্যমে কৃষকদের মধ্যে পরিমিত সার ব্যবহারের সচেতনতা বাড়ানো সহজ হবে। পাশাপাশি সার বিতরণে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত হবে। সরকারি নির্দেশনা মেনে প্রকৃত কৃষকদের কাছে সঠিক পরিমাণে সার পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ মো. কামরুজ্জামান বলেন, সার বিতরণ নিয়ে বিভিন্ন সময়ে নানা ধরনের অভিযোগ পাওয়া যায়। এসব অভিযোগ বিবেচনায় নিয়ে বিতরণ ও বিপণন ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা, স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করতে সার কার্ড চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে এ কার্যক্রমের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ইউনিয়ন ও ব্লক পর্যায়ে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা তথ্য সংগ্রহ করছেন।

তিনি আরও বলেন, ফসলভিত্তিক সুষম সার প্রয়োগ নিশ্চিত করা গেলে কৃষকের উৎপাদন খরচ কমার পাশাপাশি জমির উর্বরতা ও পরিবেশ সুরক্ষিত থাকবে। অতিরিক্ত সার ব্যবহারের কারণে দীর্ঘমেয়াদে ফসলের মান ও মাটির উর্বরতা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এ প্রবণতা নিয়ন্ত্রণে সার কার্ড কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

আরও পড়ুন:

আরো পড়ুন
শৈলকুপা শাহী
পরিত্যক্ত সুন্দরপুর
কালীগঞ্জে সরকারি খালের জায়গায় ড্রেন নির্মাণ, পানিপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ার শঙ্কা
আরো পড়ুন
মুসা মিয়া
ঝিনাইদহ ভিক্ষার
কালীগঞ্জে
আরো পড়ুন
Scroll to Top