মাগুরা-ঝিনাইদহ হয়ে দর্শনা-পোড়াদহ রেলসংযোগের উদ্যোগ, ব্যয় ১০ কোটি টাকা

মাগুরা-ঝিনাইদহ হয়ে দর্শনা-পোড়াদহ রেলসংযোগের উদ্যোগ, ব্যয় ১০ কোটি টাকা

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি

Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!

দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের রেল যোগাযোগ ব্যবস্থায় নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলতে যাচ্ছে। মাগুরা থেকে ঝিনাইদহ হয়ে কুষ্টিয়ার পোড়াদহ এবং চুয়াডাঙ্গার দর্শনা রেল নেটওয়ার্কের সঙ্গে নতুন সংযোগ স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। প্রস্তাবিত এ রেলপথ বাস্তবায়িত হলে মাগুরা ও ঝিনাইদহের যোগাযোগ, কৃষিপণ্য পরিবহন, শিল্প-বাণিজ্য এবং আঞ্চলিক অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এ লক্ষ্যে ১০ কোটি ১৭ লাখ টাকা ব্যয়ে একটি সম্ভাব্যতা সমীক্ষা প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। প্রকল্পের সম্পূর্ণ অর্থায়ন করা হবে সরকারি তহবিল থেকে। রেলপথ মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ রেলওয়ের উদ্যোগে ২০২৬ সালের আগস্ট থেকে ২০২৮ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত সমীক্ষা ও নকশা প্রণয়নের কাজ শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

মাগুরা-ঝিনাইদহ হয়ে দর্শনা-পোড়াদহ রেলসংযোগের উদ্যোগ, ব্যয় ১০ কোটি টাকাসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, প্রস্তাবিত রেলসংযোগ চালু হলে মাগুরা ও ঝিনাইদহ সরাসরি দেশের গুরুত্বপূর্ণ রেল নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত হবে। এতে কুষ্টিয়ার পোড়াদহ এবং চুয়াডাঙ্গার দর্শনা হয়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে যাতায়াত সহজ হওয়ার পাশাপাশি মোংলা বন্দর ও দর্শনা স্থলবন্দরের সঙ্গে পণ্য পরিবহনের নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে।

প্রস্তাবিত রেলসংযোগ প্রকল্পের পরিচালক আহসান জাবির জানান, প্রাথমিক সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের জন্য আট মাস সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। দ্রুততার সঙ্গে কাজ শেষ করার চেষ্টা চলছে। বিশেষজ্ঞ নিয়োগের অনুমোদন ইতোমধ্যে পাওয়া গেছে। আশা করা হচ্ছে, আগামী তিন থেকে চার মাসের মধ্যে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।

তিনি বলেন, উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে দেশি-বিদেশি প্রতিষ্ঠানকে সম্ভাব্যতা সমীক্ষার কাজে অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে। সরকারি বিধিবিধান অনুসরণ করেই পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে। ব্যয় সাশ্রয়ের বিষয়টি বিবেচনায় দেশি প্রতিষ্ঠানকে অগ্রাধিকার দেওয়ার প্রত্যাশা রয়েছে। প্রস্তাবিত রেললাইনটি মূলত ব্রডগেজ হবে।

প্রকল্প পরিচালক আরও জানান, সমীক্ষা শেষ হলে জমি অধিগ্রহণসংক্রান্ত বিশেষজ্ঞ নিয়োগ, বিস্তারিত নকশা প্রণয়ন এবং নির্মাণকাজের জন্য উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হবে। সমীক্ষার কাজে নিয়োজিত বিশেষজ্ঞদের শিক্ষাগত যোগ্যতার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে অন্তত ১০ থেকে ১৫ বছরের বাস্তব অভিজ্ঞতা থাকতে হবে।

খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, নতুন রেলসংযোগটি বাস্তবায়িত হলে মাগুরা ও ঝিনাইদহের কৃষিপণ্য কম খরচে দেশের বিভিন্ন বাজারে এবং মোংলা বন্দরে পরিবহনের সুযোগ তৈরি হবে। একই সঙ্গে শিল্পপণ্য পরিবহন, আঞ্চলিক বাণিজ্য এবং আন্তর্জাতিক রেল যোগাযোগেও নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি হতে পারে। বিশেষ করে দর্শনা রেলপথের সঙ্গে সংযোগ স্থাপিত হলে ভারতের সঙ্গে বিদ্যমান রেল যোগাযোগ ব্যবস্থার সুবিধা এ অঞ্চলের মানুষ ও ব্যবসায়ীরা আরও সহজে নিতে পারবেন।

সমীক্ষায় যেসব খাতে ব্যয় হবে

Faridpur Rail Wayপ্রকল্পের নথি অনুযায়ী, মোট ১০ কোটি ১৭ লাখ টাকার মধ্যে বড় অংশ ব্যয় করা হবে পরামর্শক সেবা ও কারিগরি জরিপে। মূল কনসালটেন্সি সেবার জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে প্রায় ৭ কোটি ৮৬ লাখ ২৫ হাজার টাকা। এ ছাড়া বিভিন্ন জরিপ ও পরীক্ষার জন্য পৃথক বরাদ্দ রয়েছে।

এর মধ্যে টপোগ্রাফিক ও ইউটিলিটি সার্ভেতে ৯০ লাখ টাকা, মাটি পরীক্ষায় ১ কোটি টাকা, ট্রাফিক সার্ভেতে ৫০ লাখ টাকা এবং পরিবেশগত ও হাইড্রোলজিক্যাল সমীক্ষায় ৮০ লাখ টাকা করে ব্যয় ধরা হয়েছে।

প্রকল্প ব্যবস্থাপনার জন্য প্রজেক্ট ম্যানেজমেন্ট ইউনিটে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৩৯ লাখ ৫০ হাজার টাকা। এ অর্থ থেকে গাড়ি ভাড়া, স্টেশনারি ও বিভিন্ন কমিটির সম্মানীসহ ব্যবস্থাপনাসংক্রান্ত ব্যয় মেটানো হবে। তবে প্রকল্প বাস্তবায়ন ইউনিটে (পিআইইউ) দায়িত্ব পালনকারী রেলওয়ের নিজস্ব কর্মকর্তাদের বেতন-ভাতা নিয়মিত বাজেট থেকে দেওয়া হবে।

বাংলাদেশ রেলওয়ের পরিকল্পনা উইংয়ের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, মাগুরা ও ঝিনাইদহকে রেল নেটওয়ার্কের মূল ধারায় যুক্ত করার ক্ষেত্রে এ সমীক্ষা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। শুধু রেললাইন নির্মাণের সম্ভাব্যতা যাচাই নয়, একই সঙ্গে বিস্তারিত নকশা ও দরপত্রসংক্রান্ত নথি প্রস্তুতের পরিকল্পনাও রয়েছে। এতে সমীক্ষা শেষ হওয়ার পর মূল নির্মাণকাজ দ্রুত শুরুর প্রস্তুতি নেওয়া সম্ভব হবে।

যোগাযোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, বড় ধরনের রেল অবকাঠামো নির্মাণের আগে মাটি, পরিবেশ, পানি প্রবাহ ও যাত্রী-পণ্য পরিবহনের চাহিদা যথাযথভাবে যাচাই করা জরুরি। মাগুরা-ঝিনাইদহ অঞ্চলে বেশ কয়েকটি নদী ও জলাশয় থাকায় হাইড্রোলজিক্যাল সমীক্ষা এবং মাটি পরীক্ষার ফলাফল বিশেষ গুরুত্ব বহন করবে।

তবে সমীক্ষা সম্পন্ন হওয়ার পর মূল রেললাইন নির্মাণে প্রয়োজনীয় অর্থের সংস্থান নিশ্চিত করাও বড় চ্যালেঞ্জ হবে। তাই প্রকল্পের পরবর্তী ধাপে বাস্তবসম্মত ব্যয় নির্ধারণ ও দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়ন পরিকল্পনা গ্রহণের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।

সব মিলিয়ে মাগুরা-ঝিনাইদহ হয়ে দর্শনা-পোড়াদহ রেলসংযোগের উদ্যোগ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের যোগাযোগ ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে। তবে সেই সম্ভাবনা বাস্তবে রূপ নিতে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সমীক্ষা শেষ, অর্থায়ন নিশ্চিত এবং নির্মাণকাজ শুরু করা এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

আরও পড়ুন:

আরো পড়ুন
মাঠই শ্রেণিকক্ষ, কৃষকরাই শিক্ষার্থী: আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি শিখছেন ঝিনাইদহের কৃষক-কৃষাণীরা
আরো পড়ুন
ললিপপ খাওয়ায়
মহেশপুর সীমান্তে
ঝিনাইদহ কৃষক কার্ড
আরো পড়ুন
শৈলকুপা শাহী
পরিত্যক্ত সুন্দরপুর
Scroll to Top