ঝিনাইদহ সদর হাসপাতাল

ঝিনাইদহে অনুপাতহীন বরাদ্দে হাসপাতালে জলাতঙ্কের ভ্যাকসিনের চরম সংকট: ৯ মাসে ১৮ হাজার মানুষ আক্রান্ত

বিশেষ প্রতিনিধি, ঝিনাইদহ:

ঝিনাইদহে কুকুর, বিড়াল ও বন্যপ্রাণীর আক্রমণে জলাতঙ্কের  উদ্বেগজনক বৃদ্ধিতে মাত্র নয় মাসে ১৮,০০০ এরও বেশি আক্রান্তের ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে, যার একটি উল্লেখযোগ্য অংশ শিশু ও কিশোর-কিশোরী। পরিস্থিতি জরুরি হওয়া সত্ত্বেও হাসপাতালগুলো জলাতঙ্ক প্রতিষেধক টিকার তীব্র সংকটের সম্মুখীন হচ্ছে, ফলে বাধ্য হয়ে অনেক ভুক্তভোগীকে চড়া দামে অন্য কোথাও চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। সম্পদ বণ্টন ও স্বাস্থ্যসেবার এই বৈষম্য ওই অঞ্চলের জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে গুরুতর উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিরা যেন সময়মতো ও যথাযথ চিকিৎসা সেবা পান, তা নিশ্চিত করতে এই পরিস্থিতিতে অবিলম্বে মনোযোগ দেওয়া প্রয়োজন।

ঝিনাইদহ সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত ৯ মাসে জেলায় আক্রান্ত মোট ১৮ হাজার ৩১১ জনের মধ্যে কেবল কুকুরের কামড়ে আহত হয়েছেন ৫ হাজার ৩৮৭ জন। আর শিয়াল, বেজি, বাদুড় ও বিড়ালের আক্রমণের শিকার হয়েছেন ১২ হাজার ৩১১ জন। তথ্য অনুযায়ী, আক্রান্তদের একটি বড় অংশ বিড়ালের আঁচড় ও কামড়ে আহত। তবে স্বস্তির বিষয় হলো, সময়মতো চিকিৎসা ও টিকা গ্রহণ করায় এই সময়ে জেলায় জলাতঙ্কে আক্রান্ত হয়ে কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি।

ঝিনাইদহ ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের পরিসংখ্যান বলছে, গত তিন মাসে (জুলাই থেকে ২৮ সেপ্টেম্বর) এ হাসপাতাল থেকে মোট ৮ হাজার ২৬৯ জন র‌্যাবিস ভ্যাকসিন নিয়েছেন। মাসভিত্তিক হিসাবে—জুলাইয়ে ২ হাজার ৬৪২ জন, আগস্টে ৩ হাজার ২৩৩ জন এবং সেপ্টেম্বরের ২৮ তারিখ পর্যন্ত ২ হাজার ৩৯ ৪ জন টিকা গ্রহণ করেন। চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের অর্ধেকেরও বেশি শিশু-কিশোর।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, সরকারি এই স্বাস্থ্যকেন্দ্রে প্রতিদিন গড়ে শতাধিক মানুষ প্রাণীর কামড় বা আঁচড় নিয়ে আসছেন। কিন্তু সরকারি পর্যায়ে পর্যাপ্ত সরবরাহ না থাকায় প্রথম বা দ্বিতীয় ডোজের পর আর বিনামূল্যে সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে দরিদ্র পরিবারগুলোকে খোলা বাজার থেকে প্রতি ডোজ ৫০০ থেকে ৮০০ টাকায় কিনে আনাত হচ্ছে, যা চার থেকে পাঁচ ডোজের পুরো মেয়াদের জন্য মারাত্মক আর্থিক বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, পাড়া-মহল্লায় বেওয়ারিশ কুকুরের সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে গেলেও পৌরসভা বা প্রাণিসম্পদ বিভাগের পক্ষ থেকে কুকুরদের গণ-টিকাদান (এমডিভি) কার্যক্রম দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে। ফলে শিশুরা স্কুলে যাওয়া-আসার পথে বা খেলাধুলার সময় প্রতিনিয়ত আক্রমণের শিকার হচ্ছে।

ভ্যাকসিনের এই সংকট প্রসঙ্গে ঝিনাইদহ ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক মো. মোস্তাফিজুর রহমান এবং জেলা সিভিল সার্জন মো. কামরুজ্জামান জানান, হাসপাতালে র‌্যাবিস ভ্যাকসিন কেনার জন্য পৃথক বা বিশেষ কোনো বাজেট বরাদ্দ থাকে না। হাসপাতালের নিয়মিত ওষুধ কেনার সাধারণ বাজেট এবং স্থানীয় প্রশাসনের আংশিক সহায়তায় স্থানীয়ভাবে এটি ক্রয় করা হয়। চাহিদার তুলনায় এই বরাদ্দ অত্যন্ত অপ্রতুল হওয়ায় নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ ধরে রাখা সম্ভব হচ্ছে না।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, জলাতঙ্ক ১০০ ভাগ প্রতিরোধযোগ্য হলেও আক্রান্ত হওয়ার পর টিকা না নিলে নিশ্চিত মৃত্যু হতে পারে। ঝিনাইদহে সাময়িকভাবে মৃত্যু এড়ানো সম্ভব হলেও দ্রুত বেওয়ারিশ প্রাণীর টিকাদান কর্মসূচি চালু করা এবং সরকারি হাসপাতালে বিনামূল্যে র‌্যাবিস ভ্যাকসিনের পর্যাপ্ত বরাদ্দ নিশ্চিত করা না গেলে যেকোনো সময় বড় ধরনের বিপর্যয় ঘটতে পারে।

আরো পড়ুন
চায়না দুয়ারি জাল জব্দ করে
আরো পড়ুন
কালীগঞ্জে প্রাথমিক বৃত্তিপাপ্ত শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা
আরো পড়ুন
মালিয়াট ইউনিয়নে
আরো পড়ুন
মহেশপুরে ছাত্রশিবিরের কৃতি শিক্ষার্থী সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত, মহেশপুরে ছাত্রশিবির, কৃতি শিক্ষার্থী সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত, ছাত্রশিবিরের কৃতি শিক্ষার্থী সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত, মহেশপুর
আরো পড়ুন
চন্ডিপুর ও গান্না বাজারের একমাত্র সংযোগ সড়ক
আরো পড়ুন
মাস্টার আজিজুর রহমান
আরো পড়ুন
Scroll to Top