ঝিনাইদহ প্রতিনিধি
ঝিনাইদহ জেলার ব্যবসা-বাণিজ্যের দুটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র চন্ডিপুর বাজার ও গান্না বাজার। তবে এই দুই বাজারের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগের একমাত্র সড়কটির হাল বর্তমানে চরম বেহাল। দীর্ঘদিনের অবহেলা, তদারকির অভাব আর চরম উদাসীনতায় সামান্য বৃষ্টিতেই কাদা ও হাঁটু পানিতে একাকার হয়ে যায় গুরুত্বপূর্ণ এই পথটি। ফলে বর্ষা মৌসুমে স্থানীয় বাসিন্দাদের দুর্ভোগ এখন চূড়ান্ত সীমায় পৌঁছেছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পশ্চিম বিষয়খালি, পশ্চিম ঝিনাইদহ ও মাধবপুর—এই তিন গ্রামের হাজার হাজার মানুষের প্রতিদিনের চলাচলের মূল ভরসা এই রাস্তাটি। সড়কটির সার্বিক অবস্থা এতই নাজুক যে, সামান্য বৃষ্টিতেই ভ্যান বা অন্যান্য যানবাহন তো দূরের কথা, সাধারণ মানুষের পায়ে হেঁটে কিংবা মোটরসাইকেল নিয়ে চলাচল করাও অসম্ভব হয়ে পড়ে।
এলাকাবাসীর চরম ক্ষোভ, বিগত সরকার ও বিগত দিনের সংসদ সদস্যরা এই অঞ্চলের মানুষের সাথে শুধুই প্রতিশ্রুতির রাজনীতি করেছেন। নির্বাচন এলেই ভোট পাওয়ার আশায় রাস্তা পাকাকরণের নানা রকম লোভনীয় আশ্বাস দেওয়া হতো, কিন্তু ভোট পার হলেই এমপি ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা এলাকার খোঁজ রাখা বন্ধ করে দিতেন। বিগত প্রশাসনের এই দীর্ঘদিনের অবহেলা ও উদাসীনতায় স্থানীয় অর্থনীতি ও সাধারণ জীবনযাত্রা আজ স্থবির হয়ে পড়েছে।
স্থানীয় চন্ডিপুর বাজারের এক প্রবীণ কাঁচামাল ব্যবসায়ী বলেন, “বিগত সরকারের আমলে কত এমপি-মন্ত্রী আসল আর গেল, কেবল বড় বড় কথা ছাড়া এই রাস্তার এক টুকরো ইটের কাজও কেউ করেনি। ভোটের সময় পায়ে ধরে ভোট নেয়, আর জেতার পর আর তাদের মুখ দেখা যায় না। হাটের দিনে কাদা ঠেলে মালামাল আন নেওয়া করতে গিয়ে আমাদের পিঠ ঠেকে গেছে দেয়ালে। আমরা আর মিথ্যা আশ্বাস চাই না, অবিলম্বে এই অবহেলার অবসান চাই।”

যোগাযোগ ব্যবস্থার এই করুণ দশায় চরম লোকসানের মুখে পড়েছেন স্থানীয় চাষিরাও। গ্রামের এক কৃষক আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, “মাঠে রক্তপানি করা পরিশ্রমে ফসল ফলাই, কিন্তু রাস্তাঘাটের এই বেহাল দশার কারণে হাটে নিয়ে ঠিকমতো বিক্রি করতে পারি না। একটু বৃষ্টি হলেই গাড়ি তো দূরের কথা, মাথায় করে সবজি নেওয়াও যায় না। বিগত দিনের এমপিরা যদি একটু নজর দিতেন, তবে আজ আমাদের এই দুর্দশা দেখতে হতো না। বিগত সরকারের ভুল নীতি আর অবহেলার খেসারত আজ আমাদের কৃষক সমাজকে দিতে হচ্ছে।”
শুধু ব্যবসা কিংবা কৃষিজীবী নয়, চরম ভোগান্তির শিকার শিক্ষা খাতের সঙ্গে যুক্ত শিক্ষক-শিক্ষার্থীরাও। স্থানীয় এক স্কুল শিক্ষক বলেন, “বর্ষা এলেই আমাদের স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীদের উপস্থিতি আশঙ্কাজনকভাবে কমে যায়। কাদা ও পানির কারণে ছোট ছোট বাচ্চারা স্কুলে আসতে পারে না, অনেকেই পিছলে পড়ে গিয়ে দুর্ঘটনা ঘটায়। বিগত সরকারের আমলে শিক্ষা নিয়ে অনেক বড় কথা বলা হলেও এলাকার মূল যোগাযোগের রাস্তাই তারা ঠিক করতে পারেনি। একজন জনপ্রতিনিধির দায়িত্ব ছিল জনভোগান্তি দূর করা, কিন্তু তারা শুধুই নিজেদের আখের গুছিয়েছে।”
একটি সড়ক কেবল মাটি ও ইটের পথ নয়—এটি মানুষের চলাচল, শিক্ষা, চিকিৎসা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও জীবিকার সঙ্গে সরাসরি জড়িত। তাই আর কোনো বিলম্ব না করে চন্ডিপুর–গান্না বাজারের এই গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ সড়কটি দ্রুত পাকাকরণের দাবি এখন সর্বস্তরের মানুষের।
এ বিষয়ে ঝিনাইদহ-২ আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য আলী আজম মোহাম্মদ আবু বক্করের শুভ বুদ্ধিমত্তা ও হস্তক্ষেপ কামনা করছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী। সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা, বিগত সরকারের দীর্ঘদিনের অনিয়ম ও অবহেলার অবসান ঘটিয়ে, আমাদের প্রিয় এমপি জনাব আলী আজম মোহাম্মদ আবু বক্কর ঝিনাইদহের এই দীর্ঘদিনের পরিচিত সমস্যাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করবেন এবং দ্রুত রাস্তাটি পাকাকরণের কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।