ঝিনাইদহে সবজির বাজারে নামমাত্র স্বস্তি, নাগালের বাইরে মাছ

নিজস্ব প্রতিবেদক

Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!

ঝিনাইদহে সবজির বাজারে নামমাত্র স্বস্তি মিললেও, নাগালের বাইরে মাছের বাজার। নিত্যপ্রয়োজনীয় সবজির বাজারে সামান্য কমতি ভাব দেখা গেলেও তার প্রকৃত সুফল মিলছে না সাধারণ মানুষের পাতে। পাইকারি ও খুচরা বাজারের বড় ব্যবধান এবং সামগ্রিক ঊর্ধ্বগতির কারণে বাজারে গিয়ে রীতিমতো হিমশিম খাচ্ছেন নিম্ন ও মধ্যবিত্ত ক্রেতারা। একদিকে সবজির দামে সামান্য নামমাত্র ছাড় মিললেও অন্যদিকে মাছের বাজারে বিরাজ করছে চরম অস্থিরতা। রুই, কাতলা, মৃগেল থেকে শুরু করে নিম্নবিত্তের ভরসা তেলাপিয়াসহ সব ধরনের মাছের দরই এখন সাধারণের নাগালের বাইরে।

শনিবার (১ আগস্ট) ঝিনাইদহ শহরের প্রধান কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা যায়, গত ১৫-২০ দিন আগের আকাশছোঁয়া দাম থেকে বর্তমানে প্রায় সব ধরনের সবজির দাম কিছুটা নেমে এসেছে। তবে পাইকারি কেনা দামের চেয়ে খুচরা বিক্রি দামে দেখা গেছে উল্লেখযোগ্য তফাৎ।

বর্তমানে বাজারে কাঁচামরিচ পাইকারি ২৪০ টাকায় কিনে খুচরা বিক্রি হচ্ছে ২৮০ টাকায়। এছাড়া প্রতি কেজি বেগুন ৮৫ টাকায় কিনে ১০০ টাকা, টমেটো ১১০ টাকায় কিনে ১৪০ টাকা, পটল ৪৭ টাকায় কিনে ৬০ টাকা, উচ্ছে ৮৫ টাকায় কিনে ১০০ টাকা, বরবটি ৬৮ টাকায় কিনে ৮০ টাকা এবং গাজর ১২০ টাকায় কিনে ১৪০ টাকায় বিক্রি করছেন খুচরা ব্যবসায়ীরা। অন্যদিকে ভেন্ডি ৩৫ টাকায় কিনে ৫০ টাকা, ঝিঙে ও চিচিঙ্গা (উশি) ৪০ টাকায় কিনে ৫০ টাকা, মুলো ৪৫ টাকায় কিনে ৬০ টাকা এবং কচু ৪০ টাকায় কিনে ৫৫ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে।

শীতকালীন আগাম সবজির বাজারে পাতা কপি প্রতি পিস ৬৫ টাকায় কিনে ৭০ থেকে ৮০ টাকা এবং পালং শাক প্রতি আঁটি ১৭ টাকায় কিনে ২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া প্রতি পিস কদু ও কেজিপ্রতি পেঁপে ২৫ টাকায় কিনে ৪০ টাকায় বিক্রি করছেন ব্যবসায়ীরা। বাজারে আলুর কেজি প্রতি ৩০ টাকা ও পেঁয়াজ ৫৫ টাকায় স্থির থাকলেও রসুনের শতক ছুঁয়েছে।

সবজির দাম সামান্য কমলেও নিম্নবিত্ত পরিবারের জন্য এই দরও চরম অসহনীয়। ঝিনাইদহ শহরের ব্যাপারিড়ার বাসিন্দা তাহুরা খাতুন আক্ষেপ করে বলেন, “তিন সপ্তাহ আগের চেয়ে দাম দু-এক টাকা কমলেও আমাদের মতো গরিব মানুষের জন্য এই দামে বাজার করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। যে আয়, তাতে সংসার চালানোই দায়, তার ওপর তরকারির এই দাম।”

একই সুর উপ-শহরপাড়ার বেবি খাতুনের কণ্ঠে। তিনি বলেন, “কাগজে-কলমে দাম কমার কথা শুনলেও বাজারে এসে দেখি উল্টো চিত্র। এক কেজি তরকারি কিনতে গেলে অন্য তরকারি আর কেনা হচ্ছে না। মাছের বাজারে তো যাওয়ারই উপায় নেই।”

বাজারের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে তরকারি বিক্রেতা মাসুদ আলী ও আবুল মুন্সি জানান, অতিবৃষ্টি ও অপ্রতুল সরবরাহের কারণে ১৫-২০ দিন আগে দাম খুব বেশি ছিল। এখন সরবরাহ কিছুটা বৃদ্ধি পাওয়ায় দাম আস্তে আস্তে কমতির দিকে। তবে পাইকারি বাজার থেকে পরিবহন খরচ ও অপচয় হিসাব করেই খুচরা দর নির্ধারণ করতে হয়।

ঝিনাইদহ পানি উন্নয়ন বোর্ড এলাকার কাঁচাবাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আশাদুল জানান, আগের সপ্তাহের তুলনায় বাজারে সবজির সরবরাহ বেড়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবং যাতায়াত ব্যবস্থা স্বাভাবিক থাকলে বাজারে দাম আরও কমে আসবে।

কৃষি দপ্তরের পক্ষ থেকেও মিলেছে ইতিবাচক বার্তা। ঝিনাইদহ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কামরুজ্জামান জানান, “আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবং বড় ধরনের কোনো ভারী বৃষ্টিপাত না হলে আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে নতুন সবজি বাজারে পুরোদমে উঠবে। তখন তরিতরকারির বাজার পুরোপুরি সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে চলে আসবে।”

আরো পড়ুন
ক্ষমতায় যেতে ভারতের সঙ্গে লিয়াজোঁ করছে জামায়াত: রাশেদ খাঁন
কালীগঞ্জে ৪০ বস্তা টিএসপি সার জব্দ
রাশেদ খাঁনের মতবিনিময়
ঝিনাইদহে ১১ দলের লংমার্চের প্রস্তুতি সম্পন্ন, দুই লাখ মানুষের সমাগমের আশা
ঢাকা-খুলনা-যশোর-ঝিনাইদহ
Turisam Fairdipu29102601
আরো পড়ুন
Scroll to Top