ঝিনাইদহ প্রতিনিধি
ঝিনাইদহ সরকারি নুরুননাহার মহিলা কলেজের বিভিন্ন অনিয়মের তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে হামলার শিকার হওয়ার অভিযোগ উঠেছে দুই সাংবাদিকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় তাঁদের মারধর করে চাঁদাবাজির মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়েছে পুলিশ। অন্যদিকে, সাংবাদিকদের পরিবারের দাবি, পূর্বপরিকল্পিতভাবে তাঁদের ফাঁসানো হয়েছে। তবে কলেজ কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, তাঁরা চাঁদা দাবি করেছিলেন। ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয় সাংবাদিকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) দুপুরে ঝিনাইদহ সরকারি নুরুননাহার মহিলা কলেজ চত্বরে এ ঘটনা ঘটে। গ্রেপ্তার দুই সাংবাদিক হলেন দৈনিক ‘প্রতিদিনের বাংলাদেশ’-এর ঝিনাইদহ জেলা প্রতিনিধি অরিত্র কুমার কুণ্ডু এবং ‘বাংলা-৭১’-এর প্রতিনিধি হাবিবুর রহমান রুবেল।
সংশ্লিষ্ট সাংবাদিকদের ভাষ্য অনুযায়ী, কলেজের সীমানাপ্রাচীর ও ড্রেন নির্মাণের কাজে ব্যবহৃত সরকারি ইট সরিয়ে নেওয়াসহ বিভিন্ন অনিয়মের তথ্য সংগ্রহ করতে তাঁরা সেখানে গিয়েছিলেন। ঘটনাস্থলে যাওয়ার পর তাঁদের অবরুদ্ধ করে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।
আহত সাংবাদিক অরিত্র কুণ্ডুর অভিযোগ, কলেজের সীমানাপ্রাচীর নির্মাণের সরকারি ইট সরিয়ে বিক্রির বিষয়ে তথ্য ও প্রমাণ সংগ্রহ করতে গেলে তাঁদের ওপর হামলা চালানো হয়। তাঁর দাবি, অনিয়মের তথ্য প্রকাশ ঠেকাতে তাঁদের মারধর করা হয়েছে এবং পরে চাঁদাবাজির অভিযোগে মামলা করা হয়েছে।
অন্যদিকে, কলেজ কর্তৃপক্ষের দাবি, সাংবাদিক পরিচয়ে অধ্যক্ষ বিজয়ন কুমার সরকারের কাছে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করা হয়েছিল। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে হুমকি দেওয়া হয় এবং পরে স্থানীয় লোকজন তাঁদের মারধর করেন। এ ঘটনায় অধ্যক্ষ বাদী হয়ে ঝিনাইদহ সদর থানায় চাঁদাবাজির মামলা করেন।
ঘটনার বিষয়ে মামলার বাদী অধ্যক্ষ বিজয়ন কুমার সরকারের বক্তব্য জানতে গণমাধ্যমের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিস্তারিত বক্তব্য দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
অরিত্র কুণ্ডুর বাবা অভিযোগ করেছেন, এর আগে ঝিনাইদহ জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কিছু সদস্যের বিরুদ্ধে মাদক-সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর তাঁর ছেলের ওপর বিরূপ পরিস্থিতি তৈরি হয়। তাঁর দাবি, সেই ঘটনার জের ধরে পরিকল্পিতভাবে ছেলেকে ফাঁসানো হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাদের বক্তব্য ও স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
উল্লেখ্য, গত ১০ অক্টোবর দৈনিক ‘প্রতিদিনের বাংলাদেশ’-এ ডিবি পুলিশের বিরুদ্ধে মাদক-সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর অরিত্র কুণ্ডু নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা চেয়ে ঝিনাইদহ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ করেছিলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে ঝিনাইদহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শেখ বিল্লাল হোসেন জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে দুই সাংবাদিককে উদ্ধার করে হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করে। পরে কলেজের অধ্যক্ষের দায়ের করা মামলায় তাঁদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত চলছে।
এদিকে, ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও বিচার দাবি করেছেন স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা। তাঁদের মতে, সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং অভিযোগের সত্যতা নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা জরুরি।

