যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা

ইসরাইলকে বছরে ৪ বিলিয়ন ডলারের সহায়তা বন্ধের ঘোষণা ট্রাম্পের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!

ইসরাইলকে দেওয়া যুক্তরাষ্ট্রের বার্ষিক প্রায় ৪ বিলিয়ন ডলারের সামরিক সহায়তা বন্ধের ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর এ আকস্মিক ঘোষণাকে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের ইসরাইল নীতিতে সম্ভাব্য বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকেরা। একই সঙ্গে ওয়াশিংটনের রাজনৈতিক অঙ্গনে ইসরাইলকে সামরিক সহায়তা দেওয়ার বিষয়ে ক্রমবর্ধমান মতবিরোধও নতুন করে সামনে এসেছে।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প এ ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, ইসরাইলকে প্রতিবছর প্রায় ৪ বিলিয়ন ডলার সহায়তা দেওয়া হয়। তবে চলতি বছরের শেষ নাগাদ এ অর্থ দেওয়া বন্ধ করা হবে। যদিও ইসরাইলের প্রয়োজন হলে যুক্তরাষ্ট্র দেশটিকে সহযোগিতা করবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

তবে ট্রাম্পের ঘোষণায় সহায়তা বন্ধের সুনির্দিষ্ট সময়সীমা ও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া পরিষ্কার করা হয়নি। ফলে এটি অবিলম্বে কার্যকর হবে, নাকি বিদ্যমান চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর বাস্তবায়িত হবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার আমলে ২০১৬ সালে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের মধ্যে ১০ বছর মেয়াদি একটি সামরিক সহায়তা চুক্তি হয়। এ চুক্তির আওতায় ইসরাইল প্রতিবছর প্রায় ৪ বিলিয়ন ডলারের সামরিক সহায়তা পেয়ে থাকে। চুক্তিটির মেয়াদ ২০২৮ সালের শেষ পর্যন্ত থাকার কথা। এ অর্থের বড় অংশ যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম কেনার কাজে ব্যয় হয়।

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রশাসনের কর্মকর্তারা ট্রাম্পের ঘোষণাকে অতিরিক্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখার বিষয়ে সতর্ক করেছেন। চারটি মার্কিন প্রশাসনে হোয়াইট হাউস ও পররাষ্ট্র দপ্তরের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করা ব্রেট ম্যাকগার্কের মতে, ট্রাম্প ২০২৮ সালে বিদ্যমান চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর সহায়তা বন্ধের কথা বলছেন, নাকি এখনই তা বন্ধ করতে চান, সেটি স্পষ্ট নয়।

এদিকে ইসরাইলকে মার্কিন সামরিক সহায়তা দেওয়ার বিষয়টি দেশটির অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে গাজায় ইসরাইলের সামরিক অভিযান এবং চলমান ইরান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে মার্কিন নাগরিকদের একাংশের মধ্যে ইসরাইলের প্রতি সমর্থন নিয়ে অসন্তোষ বাড়ছে।

মিশিগানের ডেমোক্র্যাট রাজনীতিক আবদুল আল-সাইয়িদ দীর্ঘদিন ধরে ইসরাইলকে মার্কিন সহায়তা দেওয়ার সমালোচনা করে আসছেন। তাঁর বক্তব্য, ইসরাইলকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সম্পৃক্ততার কারণে মার্কিন নাগরিকদের জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়ছে। ট্রাম্পের সাম্প্রতিক বক্তব্যে এ ধরনের সমালোচনার রাজনৈতিক গুরুত্বও সামনে এসেছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ইসরাইলের প্রতি সমর্থন নিয়ে শুধু ডেমোক্র্যাটদের মধ্যেই নয়, রিপাবলিকান পার্টির ডানপন্থী অংশের মধ্যেও মতবিরোধ বাড়ছে। ট্রাম্পের ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতির সমর্থকদের অনেকে বিদেশি রাষ্ট্রকে সামরিক সহায়তা দেওয়ার পরিবর্তে যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়ার পক্ষে অবস্থান নিচ্ছেন।

কুইনিপিয়াক ইউনিভার্সিটির এক জরিপের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে জানানো হয়, ৪৮ শতাংশ উত্তরদাতা মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্র ইসরাইলকে প্রয়োজনের তুলনায় বেশি সমর্থন দিচ্ছে। ৩৮ শতাংশ মনে করেন, বর্তমান সহায়তার পরিমাণ যথাযথ। অন্যদিকে মাত্র ৭ শতাংশ উত্তরদাতা মনে করেন, ইসরাইলকে আরও বেশি সহায়তা দেওয়া উচিত।

বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহায়তা বন্ধের ঘোষণা বাস্তবায়িত হলে ইসরাইলের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও দুই দেশের দীর্ঘদিনের সামরিক সহযোগিতায় নতুন সমীকরণ তৈরি হতে পারে। যদিও ইসরাইলের শক্তিশালী অর্থনীতি এবং যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে দেশটির গভীর সম্পর্কের কারণে সামরিক সহযোগিতা পুরোপুরি বন্ধ হওয়ার সম্ভাবনা কম।

সব মিলিয়ে ট্রাম্পের এ ঘোষণা যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে। দীর্ঘদিনের দ্বিপক্ষীয় সমর্থনের জায়গায় রাজনৈতিক বিভাজন বাড়তে থাকলে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন নীতি ও ইসরাইলের নিরাপত্তা কৌশলেও এর সুদূরপ্রসারী প্রভাব পড়তে পারে।

সূত্র: নয়া দিগন্ত অনলাইন ও সিএনএন।

আরও পড়ুন:

আরো পড়ুন
কেনিয়া যুক্তরাষ্ট্র
4994
আরো পড়ুন
IMG_20251214_140501
আরো পড়ুন
সবচেয়ে বেশি হীরা উত্তোলন করা দেশগুলো
আরো পড়ুন
ট্রাম্প-পুতিন বৈঠক
আরো পড়ুন
জম্মু-কাশ্মীরের কুলগামে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ ২ ভারতীয় সেনা নিহত
আরো পড়ুন
Scroll to Top