ঝিনাইদহ প্রতিনিধি
দুদকের অনুসন্ধানে ঝিনাইদহ জেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল মজিদ। অবৈধ সম্পদ ও অর্থপাচারের অভিযোগে নোটিশ, তদন্ত চলমান। ঝিনাইদহ জেলা বিএনপির সভাপতি ও ঝিনাইদহ-২ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী অ্যাডভোকেট আব্দুল মজিদের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জন ও বিদেশে অর্থপাচারের অভিযোগে অনুসন্ধান শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
দুদকের প্রধান কার্যালয় থেকে পাঠানো এক নোটিশে তার বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, ভয়ভীতি প্রদর্শন, টেন্ডারবাজি এবং অবৈধভাবে সম্পদ অর্জনের মতো গুরুতর অভিযোগের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। প্রাপ্ত নথিপত্র অনুযায়ী, এসব অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা যাচাইয়ে দুদকের উপ-পরিচালক ওমর ফারুকের নেতৃত্বে দুই সদস্যের একটি বিশেষ অনুসন্ধান টিম গঠন করা হয়েছে।
দুদকের নোটিশে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়—“ঝিনাইদহ জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট আব্দুল মজিদের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, ভয়ভীতি প্রদর্শন করে চাঁদাবাজি, বিভিন্ন দপ্তরে প্রভাব বিস্তার, টেন্ডার বাণিজ্যের মাধ্যমে অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং অবৈধভাবে বিদেশে অর্থ পাচার করার অভিযোগ পাওয়া গেছে।”
নোটিশ অনুযায়ী, গত ১৫ ডিসেম্বর তাকে সশরীরে হাজির হয়ে নিজের, স্ত্রী ও সন্তানদের নামে থাকা সকল স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের বিস্তারিত হিসাব জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তার ব্যাংক হিসাবের বিবরণী, আয়কর রিটার্ন এবং আয়-ব্যয়ের পূর্ণাঙ্গ নথিপত্র তলব করেছে কমিশন।
দুদক সূত্র জানায়, প্রাথমিক অনুসন্ধানে আব্দুল মজিদ ও তার পরিবারের সদস্যদের নামে বিপুল পরিমাণ সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে, যা তার ঘোষিত আয়ের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ বলে ধারণা করা হচ্ছে। এসব বিষয় যাচাই-বাছাইয়ের অংশ হিসেবেই এই অনুসন্ধান কার্যক্রম চলছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, একজন সংসদ সদস্য প্রার্থীর বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগ জনমনে প্রশ্ন তৈরি করেছে। তারা বলছেন, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে এ ধরনের অনুসন্ধান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
এ বিষয়ে আব্দুল মজিদের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তার পক্ষ থেকে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
দুর্নীতি দমন কমিশন জানিয়েছে, তদন্ত এখনও চলমান। অনুসন্ধান শেষে প্রাপ্ত তথ্য ও প্রমাণের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।