ঝিনাইদহে আবহাওয়া বদলে নিউমোনিয়া

ঝিনাইদহে আবহাওয়া বদলে নিউমোনিয়া-ডায়রিয়ার প্রাদুর্ভাব: শয্যা ছাড়াল রোগীসংখ্যা

শহর প্রতিবেদক

ঝিনাইদহে আবহাওয়া বদলে নিউমোনিয়া-ডায়রিয়ার প্রাদুর্ভাবে শয্যা ছাড়িয়েছে রোগীসংখ্যা। ঝিনাইদহে তীব্র গরম ও হঠাৎ আবহাওয়া পরিবর্তনের ফলে শিশুদের মধ্যে নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া ও হামের ভয়াবহ প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। জেলার প্রধান দুটি হাসপাতালে ইতিমধ্যেই দুই শতাধিক শিশু ভর্তি হয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছে। ধারণক্ষমতার বহুগুণ বেশি রোগী হওয়ায় শয্যাসংকটে মেঝে ও বারান্দায় স্থান নিতে বাধ্য হচ্ছে শিশুরা। তার ওপর ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে শ্বাসকষ্ট ও জ্বরে আক্রান্ত অসুস্থ শিশুদের পোহাতে হচ্ছে চরম দুর্ভোগ।

ঝিনাইদহে আবহাওয়া বদলে নিউমোনিয়া
হাসপাতালের মেঝেতে এভাবে শিশুদের নিয়ে রোগীর স্বজনরা

ঝিনাইদহ আড়াইশত শয্যা জেনারেল হাসপাতালের পরিসংখ্যান কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, শিশু ওয়ার্ডে নির্ধারিত শয্যাসংখ্যা মাত্র ৪৬টি। কিন্তু বর্তমানে সেখানে ১৯৭ জন শিশু ভর্তি রয়েছে। যার মধ্যে নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত ৮০ জন, ডায়রিয়া ও ভাইরাসজনিত রোগে ৯৭ জন এবং হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন ২০ জন। অন্যদিকে, শহরের ২৫ শয্যাবিশিষ্ট বিশেষায়িত শিশু হাসপাতালেও ঠাঁই নেই অবস্থা; সেখানে হাম ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত আরও ২১ জন শিশু ভর্তি রয়েছে।

হাসপাতাল ঘুরে দেখা যায়, বেড না পেয়ে ওয়ার্ডের ভেতর, বারান্দা ও চলাচলের প্যাসেজে শয্যা পেতে শিশুদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে তীব্র গরম ও ঘন ঘন লোডশেডিং। বিদ্যুৎ চলে গেলে ওয়ার্ডের ফ্যান বন্ধ হয়ে শ্বাসকষ্ট ও জ্বরে আক্রান্ত শিশুরা ছটফট শুরু করে। জেনারেটর সুবিধা চাহিদার তুলনায় অপ্রতুল হওয়ায় এনসিইউ ও সাধারণ ওয়ার্ডে মায়েদের টানা হাতপাখা চালিয়ে সন্তানদের শীতল রাখার প্রাণপণ চেষ্টা করতে দেখা গেছে।

আকস্মিক এই রোগের বিস্তার নিয়ে আড়াইশত শয্যা হাসপাতালের শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. আনোয়ারুল ইসলাম জানান, আবহাওয়ার দ্রুত তারতম্যের সঙ্গে মানিয়ে নিতে না পেরে বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলের শিশুরা দ্রুত অসুস্থ হয়ে পড়ছে। অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার সংক্রমণের হার লক্ষণীয়ভাবে বেশি। সীমিত শয্যার বিপরীতে অতিরিক্ত রোগী এবং স্বজনদের উপচে পড়া ভিড়ের কারণে ওয়ার্ডে দ্বিতীয় দফা সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ছে, যা শিশুদের আরোগ্য লাভে বাধা সৃষ্টি করছে।

এমন পরিস্থিতিতে চিকিৎসকেরা শিশুদের সরাসরি রোদ থেকে দূরে রাখা, পর্যাপ্ত বিশুদ্ধ পানি ও তরল খাবার দেওয়া এবং বাসি-পচা খাবার বর্জনের তাগিদ দিয়েছেন। পাশাপাশি নিরবচ্ছিন্ন চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে হাসপাতালে অবাধ দর্শনার্থী প্রবেশ রোধ ও জরুরি বিদ্যুৎ সরবরাহ সচল রাখার জোর দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী অভিভাবকেরা।

আরো পড়ুন
Whatsapp Image 2026 10 04 At 10.44.13 Pm
আরো পড়ুন
Img 20261004 Wa0001
আরো পড়ুন
Img 20260930 Wa0001
আরো পড়ুন
মোবারকগঞ্জ সুগার মিলস্ লিমিটেড
আরো পড়ুন
ঝিনাইদহ সদর হাসপাতাল
আরো পড়ুন
চায়না দুয়ারি জাল জব্দ করে
আরো পড়ুন
Scroll to Top