কালীগঞ্জে দলিল লেখক নাসির চৌধুরী গংদের লাইসেন্স নবায়নের দায়িত্ব নিলেন সাব রেজিস্টার

কালীগঞ্জ,ঝিনাইদহ:

কালীগঞ্জের সাব রেজিস্ট্রি অফিসের দলিল লেখকদের লাইসেন্স নবায়নে ব্যাপক অনিয়ম স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ উঠেছে সাব রেজিস্টার রিপন মুন্সির বিরুদ্ধে। সরকারি নিয়ম পাশ কাটিয়ে লাইসেন্স নবায়ন করে মোটা অংকের আর্থিক সুবিধা গ্রহণ করেছেন তিনি। বিগত আওয়ামী ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে রেজিস্ট্রি অফিস নিয়ন্ত্রনকারী রাঘববোয়াল সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান নাসির উদ্দিন চৌধুরী, তার ভাই আহাদ আলী, ভাইরাভাই কামাল হোসেন, সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান শফিকুজ্জামান রাসেল, রবিউল ইসলাম মিন্টু সহ বেশ কয়েকজন লেখক দীর্ঘদিন বিভিন্ন মামলার বোঝা মাথায় নিয়ে আত্মগোপনে রয়েছেন। এমনকি তাদের নামে গ্রেফতারি পরোয়ানাও জারি রয়েছে। সরকারি নিয়ম মোতাবেক দলিল লেখকদের লাইসেন্স প্রতিবছর ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে নির্ধারিত সরকারি ফি ব্যাংকে জমা দিয়ে নবায়ন করার কথা থাকলেও লেখকদের লাইসেন্স নবায়নের জন্য জেলা রেজিস্ট্রার এর খরচ বাবদ লাইসেন্স প্রতি ৩০০০ করে টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্বয়ং সাব রেজিস্টার এর বিরুদ্ধে। অপরদিকে, সরকারি নিয়ম মোতাবেক একজন লেখকের লাইসেন্সে বছরে ৩০০ দলিল রেজিস্ট্রি না হলে ওই লাইসেন্স বাতিলের বিধান থাকলেও কালিগঞ্জ সাব রেজিস্টার এ আইন মানেননি। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী অত্র অফিসে ১৮ থেকে ২০ টি দলিল লেখক লাইসেন্স চলমান থাকার কথা। কিন্তু সাব রেজিস্টার অর্থনৈতিক সুবিধা হাসিলের জন্য ৮০ জন দলিল লেখক এর লাইসেন্স নবায়ন করেছেন বলে জানা যায়। বিগত ফ্যাসিস্ট আমলে বহুল আলোচিত দুদক সহ বিভিন্ন মামলার পলাতক আসামি নাসির চৌধুরীরসহ একাধিক দলিল লেখক বিগত দিনে সাবেক সংসদ সদস্য আব্দুল মান্নান ও আনোয়ারুল আজিম আনারের খুটির জোরে ধরাকে সরা জ্ঞান করে রাম রাজত্ব কায়েম করেছিল। রেজিস্ট্রির ক্ষেত্রে সরকার নির্ধারিত ফি থেকেও তিন থেকে সাত গুণ অর্থ জোরপূর্বক আদায় করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছিল নাসির চৌধুরীর সিন্ডিকেট। যার দরুন নাসির চৌধুরী শত কোটি টাকার মালিকও বনে যাই অল্প সময়ে। সেই দলিল লেখক নাসির চৌধুরীর গংদের লাইসেন্স নবায়নের দায়িত্ব পালন করছেন সাব রেজিস্টার রিপন মুন্সি। তলে তলে তাদের সাথে রিপন মুন্সির রয়েছে গোপন সখ্যতা। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক লেখক জানান, বর্তমানে সাব রেজিস্টার রিপন মুন্সি নাসিরের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছেন। লেখকদের সমিতি গঠন থেকে বিরত রেখে আওয়ামী সমর্থিত নকল নবিশ সাহেব আলী, টিসি মহরার নাজমা খাতুন, বহিরাগত ওমেদার শাকিল হোসেন, মহরার সবুজ হোসেনকে নিয়ে গড়ে তুলেছেন সিন্ডিকেট।কবলা দলিলে স্থাপনা না দেখিয়ে, ওয়ারেশ সূত্রে শতক প্রতি ২ হাজার,দাতা গ্রহীতার নামের প্রত্যয়নের গড়মিল থাকলে ৫ -২০ হাজার,নামের ক্ষেত্রে ওরফে থাকলে ২০-৫০ হাজার, কবলা দলিলে সরকার নির্ধারিত এম এন ফিস ৩৬০ টাকা হলেও তিনি অতিরিক্ত ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা এবং হেবার ঘোষণাপত্র দলিলে ৮০০ টাকার স্থানে ১২ শ টাকা আদায় করছেন। এছাড়াও দলিল প্রতি ১০০০ টাকা অফিস খরচ বাবদ নিচ্ছেন। টিপ সহি দিতে নিচ্ছেন ১০০ টাকা করে। বর্তমানে কবলা দলিলের পরিবর্তে দানপত্র দলিল করে সরকারি রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন। অফিসের মধ্যে ঘুষের টাকা রাখতে ব্যবহার করছেন রেকর্ডরুম। নানা অভিযোগের ব্যাপারে সাব রেজিস্টার রিপন মুন্সির মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তিনি সকল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, নাসির চৌধুরীর আবেদন খালি রেখে জেলায় পাঠানো হয়েছে। নবায়নকারী জেলা রেজিস্টার স্যার ;আমি নয়। নাসির চৌধুরীর সহ আওয়ামী সমর্থিত দলিল লেখকদের আবেদন আপনি কিভাবে হাতে পেলেন এমন প্রশ্নের কোন সদুত্তর তিনি দেননি। নবায়নের জন্য দলিল প্রতি তিন হাজার টাকা অতিরিক্ত নেওয়ার কথাও অস্বীকার করেন তিনি। আমার অফিসে কোনো সিন্ডিকেট নেয়,সরকারি ফির অতিরিক্ত কোনো টাকা নেওয়া হয় না বলেও তিনি বলেন।

আরো পড়ুন
IMG-20260209-WA0004
আরো পড়ুন
20260207_203316
আরো পড়ুন
এম মজিদ
আরো পড়ুন
IMG-20260122-WA0010
আরো পড়ুন
IMG-20260121-WA0010
আরো পড়ুন
গণ অধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি মিন্টু ঢালীর জামায়াতে যোগদান
আরো পড়ুন
Scroll to Top