ইব্রাহীমের গোলেই বাংলাদেশের জয়, কোচ ডুলির স্বীকারোক্তি—‘ভাবতেই পারিনি’

ইব্রাহীমের গোলেই বাংলাদেশের জয়, কোচ ডুলির স্বীকারোক্তি—‘ভাবতেই পারিনি’

স্পোর্টস ডেস্ক

Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!

সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে জয়ের মধ্য দিয়ে যাত্রা শুরু করেছে বাংলাদেশ। ভুটানের বিপক্ষে ১-০ গোলের জয়ে নায়ক হয়ে উঠেছেন বদলি হিসেবে মাঠে নামা মোহাম্মদ ইব্রাহীম। তবে তাঁকে মাঠে নামানোর সময় গোল করার প্রত্যাশা করেননি বাংলাদেশের কোচ টমাস ডুলি। বরং তাঁর পরিকল্পনা ছিল, ইব্রাহীম সতীর্থদের গোলের সুযোগ তৈরি করে দেবেন।

বৃহস্পতিবার জাতীয় স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে ৬৫ মিনিটে বিশ্বনাথ ঘোষকে তুলে ইব্রাহীমকে মাঠে নামান ডুলি। মাঠে নামার মাত্র চার মিনিটের মাথায়, অর্থাৎ ৬৯ মিনিটে জয়সূচক গোলটি করেন ফোর্টিস এফসির এই ফরোয়ার্ড। তাঁর গোলেই ভুটানকে হারিয়ে প্রতিযোগিতায় শুভ সূচনা করে বাংলাদেশ।

ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে ইব্রাহীমকে নামানোর পরিকল্পনা ব্যাখ্যা করেন ডুলি। তিনি জানান, বিশ্বনাথ বেশ পরিশ্রম করায় ক্লান্ত হয়ে পড়েছিলেন। পাশাপাশি বল ধরে রেখে সতীর্থদের আক্রমণে ওঠার সুযোগ তৈরি করার মতো একজন খেলোয়াড়ের প্রয়োজন ছিল।

ডুলির ভাষ্য অনুযায়ী, ইব্রাহীমকে সরাসরি স্ট্রাইকার হিসেবে নয়, বরং নম্বর টেন পজিশনে খেলানোর পরিকল্পনা ছিল। একই সঙ্গে শমিত সোমকে কিছুটা সামনে এগিয়ে দেওয়া হয়। তবে ইব্রাহীম নিজেই গোল করবেন, এমনটা ভাবেননি কোচ। তাঁর প্রত্যাশা ছিল, ইব্রাহীম অন্য কোনো সতীর্থকে দিয়ে গোল করাবেন।

বিশ্বনাথকে তুলে নেওয়ার কারণ জানিয়ে ডুলি বলেন, তিনি অনেক দৌড়াদৌড়ি করছিলেন এবং কিছুটা ক্লান্ত হয়ে পড়েছিলেন। দলের তখন এমন একজনকে দরকার ছিল, যিনি বল ধরে রাখতে পারবেন। এতে শমিত সোম, রাকিব হোসেন ও ফয়সাল আহমেদ ফাহিমের আক্রমণে উঠে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।

ইব্রাহীমের গোল করার সামর্থ্য অবশ্য ক্লাব ফুটবলেও দেখা গেছে। কিরগিজস্তানের মুরাস ইউনাইটেডের বিপক্ষে তাঁর জয়সূচক গোলেই এএফসি চ্যালেঞ্জ লিগের গ্রুপ পর্বে জায়গা করে নিয়েছিল ফোর্টিস এফসি। এবার জাতীয় দলের হয়েও গুরুত্বপূর্ণ সময়ে গোল করে নিজের কার্যকারিতা প্রমাণ করলেন তিনি।

ম্যাচে বিশ্বনাথ ঘোষকে আক্রমণভাগে খেলানোর সিদ্ধান্ত নিয়েও কথা বলেন ডুলি। তাঁর মতে, বিশ্বনাথের শারীরিক শক্তি, পরিশ্রম এবং প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগে চাপ তৈরির ক্ষমতা তাঁকে সামনে খেলানোর উপযোগী করে তুলেছে।

কোচ জানান, ডান প্রান্তে সাদ উদ্দিন ও তারিক কাজী ভালো খেলায় বিশ্বনাথকে তাঁর পরিচিত পজিশনে খেলানো কঠিন হয়ে পড়েছিল। তবে তাঁকে একাদশের বাইরে না রেখে দলের প্রয়োজনে আক্রমণভাগে ব্যবহার করার সিদ্ধান্ত নেন তিনি।

নম্বর নাইন হিসেবে বিশ্বনাথের পারফরম্যান্সেও সন্তুষ্ট ডুলি। তাঁর মতে, এই পজিশনে শারীরিক লড়াইয়ের প্রয়োজন হয়, আর বিশ্বনাথ সেই চ্যালেঞ্জ নিতে পিছপা হন না। গোলের সুযোগ তৈরি করলেও শেষ পর্যন্ত তা কাজে লাগাতে পারেননি তিনি।

২০০৩ সালে ঘরের মাঠে সর্বশেষ সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপা জিতেছিল বাংলাদেশ। দীর্ঘ ২৩ বছর পর আবারও দেশের মাটিতে শিরোপা জয়ের স্বপ্ন দেখছে লাল-সবুজের দল। ভুটানের বিপক্ষে জয় সেই লক্ষ্যে আত্মবিশ্বাস জোগাবে দলকে।

আরও পড়ুন:

আরো পড়ুন
সরাসরি সিলেট
Raphinha 041126 01
যৌন হয়রানি
নারী টোয়েন্টিতে
তাবিত আওয়াল
ক্রিকেট খেলতে গিয়ে দৃষ্টিশক্তি হারিয়েও থামেননি আরাফাতুল, এবার এশিয়া কাপের দলে
Scroll to Top