যৌন হয়রানি

যৌন হয়রানির অভিযোগে আজীবন নিষিদ্ধ মঞ্জুরুলের রিট খারিজ

স্পোর্টস ডেস্ক

Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!

যৌন হয়রানির অভিযোগে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) আজীবন নিষেধাজ্ঞার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে করা দুটি রিট আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন হাইকোর্ট। ফলে জাতীয় দলের সাবেক ক্রিকেটার এবং নারী দলের সাবেক নির্বাচক ও ম্যানেজার মঞ্জুরুল ইসলামের ক্রিকেটে ফেরার পথ আপাতত বন্ধই থাকছে।

বুধবার (৪ নভেম্বর) বিসিবির আইনজীবী ব্যারিস্টার মাহিন এম রহমান এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি বলেন, বিসিবির সিদ্ধান্তের পর মঞ্জুরুল ইসলাম রিট আবেদন করেছিলেন। তবে আবেদন দুটি বেশ আগেই খারিজ হয়েছে। খারিজের সুনির্দিষ্ট তারিখ তাঁর মনে নেই।

ক্রিকেটার জাহানারা আলমের আনা যৌন হয়রানির অভিযোগ তদন্তে বিসিবি গঠিত কমিটির প্রতিবেদনে মঞ্জুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে দুটি অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়। বিসিবির আইনজীবী জানান, তদন্তে জাহানারা আলমকে অনুপযুক্তভাবে স্পর্শ করা এবং তাঁর সঙ্গে রূঢ় আচরণের প্রমাণ মিলেছে। এসব আচরণ যৌন নিপীড়নের সংজ্ঞার মধ্যে পড়ে বলে তদন্ত কমিটি মত দিয়েছে।

তবে জাহানারা আলম আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ করলেও সেগুলোর সত্যতা তদন্ত কমিটি পায়নি বলে জানান বিসিবির আইনজীবী।

২০২৫ সালের নভেম্বরে জাহানারা আলমের অভিযোগ তদন্তে কমিটি গঠন করে বিসিবি। প্রথমে তিন সদস্যের কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও পরে আরও দুজনকে যুক্ত করে সদস্যসংখ্যা পাঁচ করা হয়। কমিটির প্রধান ছিলেন আপিল বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি তারিক উল হাকিম। অন্য সদস্যরা ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান ও আইন কমিশনের সদস্য অধ্যাপক ড. নাইমা হক, সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ব্যারিস্টার মোস্তাফিজুর রহমান খান, ব্যারিস্টার সারওয়াত সিরাজ শুক্লা এবং বিসিবির তৎকালীন নারী বিভাগের প্রধান ও পরিচালক রুবাবা দৌলা।

দীর্ঘ তদন্ত শেষে ২০২৬ সালের ৩১ জানুয়ারি কমিটি প্রতিবেদন প্রস্তুত করে। ২ ফেব্রুয়ারি প্রতিবেদনটি বিসিবি সভাপতির কাছে জমা দেওয়া হয়। ওই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ২২ ফেব্রুয়ারি বিসিবির পরিচালনা পর্ষদের সভায় মঞ্জুরুল ইসলামকে বোর্ডের আওতাধীন সব ধরনের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ কর্মসংস্থান এবং ক্রিকেট-সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম থেকে আজীবনের জন্য নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরে সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ সিদ্ধান্ত জানায় বিসিবি।

বিসিবির আইনজীবী মাহিন এম রহমান জানান, যৌন হয়রানি প্রতিরোধ নীতিমালা অনুযায়ী তদন্তের উপকরণ ও প্রতিবেদন জনসম্মুখে প্রকাশের সুযোগ নেই। এসব নথি গোপনীয় হিসেবে বিবেচিত হয়। তাঁর ভাষ্য, তদন্তে ব্যক্তিগত ও সংবেদনশীল তথ্য এবং সাক্ষীদের বক্তব্য উঠে আসে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিব্রতকর পরিস্থিতি বা মানহানির ঝুঁকি থেকে সুরক্ষা দেওয়ার স্বার্থেই এসব তথ্য গোপন রাখা হয়।

রিট আবেদন দুটি খারিজ হওয়ার পর মঞ্জুরুল ইসলাম আপিল বিভাগে যাননি বলেও জানান বিসিবির আইনজীবী। তিনি আরও বলেন, যৌন হয়রানির ঘটনায় আলাদাভাবে ফৌজদারি মামলা করার সুযোগ রয়েছে। তবে এ ধরনের মামলা ভুক্তভোগীকেই করতে হবে; প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিসিবি মামলা করতে পারবে না।

মাহিন এম রহমানের দাবি, মঞ্জুরুল ইসলামকে আজীবন নিষিদ্ধ করার সময় জাহানারা আলমকে ফৌজদারি মামলা করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল এবং এ ক্ষেত্রে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছিল বিসিবি। তবে তাঁর জানা মতে, জাহানারা এখনো ফৌজদারি মামলা করেননি।

আরও পড়ুন:

আরো পড়ুন
ইব্রাহীমের গোলেই বাংলাদেশের জয়, কোচ ডুলির স্বীকারোক্তি—‘ভাবতেই পারিনি’
সরাসরি সিলেট
Raphinha 041126 01
নারী টোয়েন্টিতে
তাবিত আওয়াল
ক্রিকেট খেলতে গিয়ে দৃষ্টিশক্তি হারিয়েও থামেননি আরাফাতুল, এবার এশিয়া কাপের দলে
Scroll to Top