বিশেষ প্রতিনিধি
আত্মহত্যার মামলায় দেশের ৯ নম্বরে ঝিনাইদহ, শীর্ষে যশোর ও ৭ম কুষ্টিয়া। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সীমান্তঘেঁষা জেলা ঝিনাইদহ ও এর আশপাশের অঞ্চলে আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে আত্মহত্যার প্রবণতা। দেশে আত্মহত্যার মামলা সংক্রান্ত পরিসংখ্যানের শীর্ষ ১০ জেলার মধ্যে ৯ম স্থানে রয়েছে ঝিনাইদহ জেলা। তবে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ প্রতিবেশী জেলাগুলোতে; ১,৪৫৪টি মামলা নিয়ে তালিকার শীর্ষে রয়েছে যশোর এবং ১,০৭৫টি মামলা নিয়ে ৭ম স্থানে অবস্থান করছে কুষ্টিয়া।
রাজধানীতে আইসিডিডিআর,বি, জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এক জাতীয় নীতি-নির্ধারণী সভায় ‘বাংলাদেশ জাতীয় আত্মহত্যা প্রতিরোধ পরিকল্পনা ২০২৬-২০৩০ (খসড়া)’ শীর্ষক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উন্মোচিত হয়।
পুলিশের নথিভুক্ত তথ্যানুযায়ী, ২০২২ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত ঝিনাইদহ জেলায় আত্মহত্যার মোট মামলা হয়েছে ১,০৪২টি। অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলা এবং যশোরের অভয়নগর উপজেলা আত্মহত্যার বিশেষ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২০ সাল থেকে ২০২৫ সালের অক্টোবর পর্যন্ত দেশে মোট ৮৫,৭৩৭ জন মানুষ আত্মহত্যা করেছেন। এর মধ্যে ২০২২ সালে সর্বাধিক ১৬,৮৮৯ জন প্রাণ হারান। এছাড়া ২০২০ সালে ১৫,৫৬৫, ২০২১ সালে ১৫,৭৭৪, ২০২৩ সালে ১৪,১৭১, ২০২৪ সালে ১৩,৯৭৫ এবং ২০২৫ সালের প্রথম ১০ মাসে ১২,৪৬৭টি মৃত্যুর ঘটনা রেকর্ড করা হয়।
মামলার বিচারে শীর্ষ ১০ জেলার মধ্যে ঝিনাইদহ (১,০৪২টি) ৯ম, যশোর (১,৪৫৪টি) ১ম এবং কুষ্টিয়া (১,০৭৫টি) ৭ম স্থানে থাকার পাশাপাশি দ্বিতীয় থেকে ১০ম স্থানে যথাক্রমে রয়েছে ঢাকা (১,৪০২), কুমিল্লা (১,২৮৮), দিনাজপুর (১,২৫৯), বগুড়া (১,২১৪), ময়মনসিংহ (১,১২৬), পাবনা (১,০৮৩) ও নওগাঁ (৮৮৭)।
মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ও গবেষকদের মতে, ঝিনাইদহসহ এই অঞ্চলের কৃষিভিত্তিক অর্থনীতিতে কীটনাশকের সহজলভ্যতাই আত্মহত্যার মাধ্যম হিসেবে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হচ্ছে। পারিবারিক ও সম্পর্কের টানাপোড়েন, মানসিক বিষণ্নতা, বেকারত্ব এবং পড়ালেখার অতিরিক্ত চাপ তরুণ প্রজন্মকে আত্মহননের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
সভায় বক্তারা ১৮৬০ সালের দণ্ডবিধির ৩০৯ ধারা (আত্মহত্যার চেষ্টার শাস্তি) বিলোপের তাগিদ দিয়ে বলেন, আত্মহত্যাকারীকে শাস্তি না দিয়ে মানসিক চিকিৎসা দেওয়া প্রয়োজন। একই সাথে বাজারে অতিমাত্রায় বিষাক্ত কীটনাশকের অবাধ বিক্রি বন্ধে কঠোর ব্যবস্থার দাবি জানান তারা।