কালীগঞ্জ (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি
কালীগঞ্জবাসীর যাত্রায় স্বস্তি আনতে এমপি আবু তালিবের উদ্যোগে আসছে নতুন ট্রেন, সাড়ে ৩ ঘণ্টায় পৌঁছানো যাবে ঢাকায়। কালীগঞ্জসহ ঝিনাইদহ অঞ্চলের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের লাখ লাখ মানুষের দীর্ঘদিনের যাতায়াত কষ্ট ও সময়ক্ষেপণের ভোগান্তি অবসানে এক বড় সাফল্য এসেছে। ঝিনাইদহ-৪ আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য মো. আবু তালিবের নিরলস প্রচেষ্টা ও ডিও পত্রের প্রেক্ষিতে দর্শনা-মোবারকগঞ্জ-যশোর-পদ্মা সেতু-ঢাকা রুটে একটি নতুন প্রভাতী আন্তঃনগর ট্রেন চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সম্প্রতি বাংলাদেশ রেলওয়েতে যুক্ত হতে যাওয়া তিনটি নতুন লোকোমোটিভের (ইঞ্জিন) মধ্য থেকে একটি এই রুটে বরাদ্দ দেওয়ার বিষয়ে এমপি মো. আবু তালিবকে ইতিবাচক আশ্বাস দিয়েছেন রেলপথ মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, এমপি। প্রস্তাবিত ট্রেনটি দর্শনা থেকে ছেড়ে মোবারকগঞ্জ, কোটচাঁদপুর ও যশোর হয়ে নবনির্মিত পদ্মা সেতু দিয়ে সরাসরি ঢাকায় প্রবেশ করবে।
বর্তমানে যমুনা সেতু দিয়ে ঘোরা পথে ঝিনাইদহ ও কালীগঞ্জ অঞ্চল থেকে ঢাকায় পৌঁছাতে প্রায় ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা সময় লাগে। কিন্তু পদ্মা সেতু রুট চালু হলে এই সময় কমে মাত্র ৩ থেকে সাড়ে ৩ ঘণ্টায় নেমে আসবে, যা দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থায় এক ঐতিহাসিক পরিবর্তন আনবে।
জরুরি চিকিৎসা সেবা: কালীগঞ্জের সংকটাপন্ন রোগীদের উন্নত চিকিৎসার জন্য তাৎক্ষণিকভাবে ঢাকায় স্থানান্তরের ক্ষেত্রে ৩ ঘণ্টার যোগাযোগ ব্যবস্থার সুবিধা জীবন রক্ষায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
ব্যবসায়িক সম্প্রসারণ: ব্যবসায়ী, কৃষিপণ্য পরিবহন ও ক্ষুদ্র শিল্প উদ্যোক্তারা দিনের কাজ দিনে শেষ করে রাতে ঘরে ফিরতে পারবেন। কাঁচামাল ও উৎপাদিত পণ্য সহজে রাজধানীতে পৌঁছানোর ফলে স্থানীয় অর্থনীতি নতুন গতি পাবে।
শিক্ষা ও কর্মসংস্থান: রাজধানী কেন্দ্রিক শিক্ষা, চাকরি পরীক্ষা এবং প্রশাসনিক দরবারে যাতায়াতকারী শিক্ষার্থী ও তরুণদের জন্য ভোগান্তি ও অতিরিক্ত ঢাকা অবস্থান খরচ বহুলাংশে কমে আসবে।
সড়কপথের ওপর চাপ হ্রাস: ঢাকা-যশোর মহাসড়ক ও বাস চলাচলের ওপর অতিরিক্ত চাপ কমে আসবে এবং সাশ্রয়ী ও নিরাপদ রেল ভ্রমণ নিশ্চিত হবে।
বর্তমানে এ অঞ্চলে কোনো প্রভাতী (সকালের) আন্তঃনগর ট্রেন না থাকায় সাধারণ মানুষকে বাধ্য হয়ে রাতে দীর্ঘ পথ সফর করতে হয় অথবা অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে সড়কপথে যাতায়াত করতে হয়। এতে একদিকে যেমন শারীরিক ক্লান্তি আসে, অন্যদিকে সড়ক দুর্ঘটনার ঝুঁকি ও অর্থনৈতিক ক্ষতি বৃদ্ধি পায়। সকালের প্রভাতী ট্রেন চালু হলে এসব দীর্ঘদিনের অসুবিধার স্থায়ী সমাধান ঘটবে।
সংসদ সদস্য মো. আবু তালিব বলেন, “কালীগঞ্জ ও আশপাশের অঞ্চলের সর্বস্তরের মানুষের দুর্ভোগ লাঘব করতেই আমি মাননীয় রেলপথ মন্ত্রীর কাছে ডিও পত্র ও সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব তুলে ধরি। আশার কথা হলো, সরকার এটি বাস্তবায়নে কারিগরি ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণে ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে। অতি দ্রুত এই সার্ভিস বাস্তবায়িত হলে এটি সমগ্র এলাকার সার্বিক আর্থ-সামাজিক চিত্রে নতুন এক মাইলফলক স্থাপন করবে।”
এ বিষয়ে স্থানীয় এক বাসিন্দা বিল্লাল হোসেন বলেন, এ অঞ্চলের মানুষের বহুল প্রতীক্ষিত এই রেল যোগাযোগ সুবিধা দ্রুত বাস্তবায়ন ও ট্রেন উদ্বোধনের অপেক্ষায় প্রহর গুনছেন কালীগঞ্জের সর্বস্তরের সাধারণ মানুষ। ট্রেন উদ্বোধন হলে এ অঞ্চলের সকল শ্রেণী পেশার মানুষের জন্য সহজ হয়ে যাবে জীবন যাত্রার মান।