কালীগঞ্জ (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি
মালিয়াটে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আহসান হাবিবের উদ্যোগে ৩ কাঁচা সড়কে ইটের রাবিশ, কাদার দুর্ভোগ থেকে মুক্তি। একটু বৃষ্টি হলেই হাঁটু সমান কাদা আর জমে থাকা পানি। বছরের পর বছর ধরে ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার ৮ নম্বর মালিয়াট ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের দীঘারপাড়া ও চাকুলিয়া এলাকার হাজারো মানুষের নিত্যদিনের সঙ্গী ছিল এই চরম ভোগান্তি। বিশেষ করে কোমলমতি শিক্ষার্থী, বয়োবৃদ্ধ ও অসুস্থ রোগীদের জন্য কাঁচা সড়ক তিনটি পেরিয়ে মূল সড়কে পৌঁছানো যেন এক দুঃস্বপ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছিল।
দীর্ঘদিনের সেই পুঞ্জীভূত দুর্ভোগ লাঘবে এক মানবিক উদ্যোগ দেখা গেছে এলাকাটিতে। স্থানীয় বাসিন্দাদের দীর্ঘদিনের কষ্টের কথা বিবেচনা করে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আহসান হাবিবের ব্যক্তিগত চেষ্টায় ওই ৩টি কাঁচা সড়কে প্রায় ৬ গাড়ি ইটের রাবিশ ফেলা হয়েছে। হঠাৎ করেই রাস্তার কাদামাটি ঢেকে গিয়ে ইটের স্তরে কিছুটা সমতল রূপ পাওয়ায় দীর্ঘদিনের অবহেলিত সাধারণ মানুষের মুখে এখন সাময়িক স্বস্তির হাসি।
৩০ আগস্ট রোববার সকালে স্থানীয়দের সাথে নিয়ে নিজে উপস্থিত থেকে এই সংস্কার কাজের সূচনা করেন সাবেক চেয়ারম্যান আহসান হাবিব। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ৮ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার পদপ্রার্থী মুহাম্মদ শফিকুল ইসলামসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
ইটের রাবিশ ফেলার পর উচ্ছ্বসিত প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এক স্থানীয় বর্ষীয়ান জননেতা বলেন, “বর্ষা আসলেই কাদা-পানিতে রাস্তায় হাঁটা কঠিন হয়ে পড়তো। আজ এই ইটের রাবিশ ফেলাতে কিছুটা হলেও স্বস্তি এসেছে। আমরা বেশ খুশি। তবে এটা সাময়িক, আমাদের দাবি যদি স্থায়ীভাবে পাকা রাস্তা করে দেওয়া হয়, তবেই এই এলাকার মানুষের স্থায়ী ভালো হবে।”
উদ্যোগটির বিষয়ে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আহসান হাবিব বলেন, “মানুষের দীর্ঘদিনের কাদা-পানির যে চরম কষ্ট, তা লাঘব করার জন্যই আমাদের এই ক্ষুদ্র মানবিক প্রচেষ্টা। সাময়িকভাবে চলাচলের উপযোগী হলেও সড়কগুলোর স্থায়ী সমাধান প্রয়োজন। আমরা ইতিমধ্যে সড়কগুলোর আইডি নম্বর সংগ্রহ করেছি। আমাদের স্থানীয় মাননীয় সংসদ সদস্য জননেতা আবু তালেব ভাই এলাকার সার্বিক উন্নয়নে অত্যন্ত তৎপর ও আন্তরিক।”
তিনি আরও যোগ করেন, “আমরা মাননীয় সংসদ সদস্যের কাছে এই ৩টি সড়কের আইডি জমা দেব এবং আবেদন জানাব যেন চলতি অর্থবছরেই বরাদ্দকৃত বাজেট থেকে সড়কগুলো পাকাকরণের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। তিনি আমাদের কথা দিয়েছেন এবং সড়কগুলো পাকা করার আশ্বাস প্রকাশ করেছেন। আশা করছি খুব দ্রুতই টেন্ডারের মাধ্যমে স্থায়ী পাকাকরণ সম্পন্ন হবে।”
কালীগঞ্জের দীঘারপাড়া ও চাকুলিয়ার বাসিন্দারা আশা করছেন, সাময়িক এই স্বস্তির পর এবার স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের উদ্যোগে কাঁচা সড়কগুলো দ্রুত পাকা সড়কে রূপান্তরিত হবে এবং তাদের বহু বছরের দুর্ভোগের স্থায়ী সমাধান মিলবে।