শ্লীলতাহানির অভিযোগে শিক্ষককে পিটুনি

শ্লীলতাহানির অভিযোগে শিক্ষককে পিটুনি, স্বাক্ষরবিহীন রহস্যজনক চিঠি ঘিরে তোলপাড়

কালীগঞ্জ প্রতিনিধি

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলায় এক স্কুলছাত্রীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগে শাহ আলম নামের এক সহকারী শিক্ষককে কর্মস্থলেই বেধড়ক পিটিয়েছে বহিরাগতরা। তবে শিক্ষকের স্বজনদের দাবি, “স্কুলে চলা বিভিন্ন অনিয়ম ও অন্যায়ের প্রতিবাদ করায় স্থানীয় প্রভাবশালীদের যোগসাজশে তাকে পরিকল্পিতভাবে ফাঁসানো হয়েছে।”

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ছাত্রীর নামে জমা দেওয়া একটি স্বাক্ষরবিহীন রহস্যজনক চিঠি নিয়েও এলাকায় ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) সকালে উপজেলার বড়-বাইসা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এই অনাকাঙিক্ষত ঘটনা ঘটে।

স্কুল সূত্রে জানা যায়, ওই দিন সকালে প্রধান শিক্ষক পিয়ার মোহাম্মদ ছাত্রীর পরিবারের সাথে কথা বলে স্কুলে আসার পরপরই ছাত্রীর চাচা সৌরভ সরকারের নেতৃত্বে ১০-১২ জনের একটি দল অফিস কক্ষে ঢুকে সহকারী শিক্ষক শাহ আলমকে মারধর করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে গেলে পুলিশ এসে তাকে উদ্ধার করে এবং পরে অসুস্থ অবস্থায় ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে ভর্তি করে।

শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ হলো, তিনি চতুর্থ শ্রেণির ওই ছাত্রীকে দুপুরে খাওয়ার জন্য প্রতিদিন ১০ টাকা দিতেন এবং ঘটনার আগের দিন তার হাতে ‘ওয়াশরুমে যাও’ লিখে দেখান। ঘটনার পর স্থানীয়রা একটি সাদা কাগজে হাতে লেখা চিরকুট উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ও প্রধান শিক্ষকের কাছে অভিযোগপত্র হিসেবে জমা দেয়। তবে চিঠিটিতে কারো স্বাক্ষর নেই এবং কার বরাবর লেখা হয়েছে তারও কোনো উল্লেখ নেই।

তাছাড়া, চতুর্থ শ্রেণির একজন শিক্ষার্থীর পক্ষে চিঠিতে ব্যবহৃত শব্দচয়ন ও বর্ণ বিন্যাস কতটা যৌক্তিক, তা নিয়ে জেলার সচেতন মহল ও শিক্ষকদের মাঝে ব্যাপক সন্দেহ ও সমালোচনা তৈরি হয়েছে।

আহত শিক্ষক শাহ আলমের স্ত্রী তানিয়া সুলতানা ও বড় ভাই মিজানুর রহমান দৃঢ়ভাবে দাবি করেন, শাহ আলম স্কুলের যেকোনো অনিয়মের বিরুদ্ধে সবসময় জোরালোভাবে সত্যের পক্ষে অবস্থান নিতেন। তার এই প্রতিবাদী ভূমিকার কারণেই গ্রামের সমাজপতিরা ক্ষুব্ধ হয়ে একটি ভিত্তিহীন অভিযোগ দাঁড় করিয়ে তাকে ফাঁসিয়েছে।

তারা বলেন, থানায় অভিযোগ না দিলে উল্টো ফাঁসিয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে ছাত্রীর মাকে অভিযোগ করতে বাধ্য করা হয়েছে। স্বজনরা এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও হামলাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

বর্তমানে শিক্ষক শাহ আলম ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. রাজিয়া সুলতানা জানিয়েছেন, আঘাত ও আতঙ্কের কারণে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লেও বর্তমানে শারীরিকভাবে শঙ্কামুক্ত রয়েছেন।

এই ঘটনার পর কালীগঞ্জের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেজওয়ানা নাহিদ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তিনি শিক্ষককে মারধর, শিক্ষার্থীর মূল অভিযোগ এবং রহস্যজনক চিরকুটের বিষয়ে সঠিক ও নিরপেক্ষ তদন্তের জন্য থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) নির্দেশ দিয়েছেন।

কালীগঞ্জ থানার ওসি কবির হোসেন জানান, ছাত্রীর মায়ের পক্ষ থেকে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। তবে সরকারি প্রতিষ্ঠানে ঢুকে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেলে হামলাকারীদের বিরুদ্ধেও কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

আরো পড়ুন
Whatsapp Image 2026 10 04 At 10.44.13 Pm
আরো পড়ুন
Img 20261004 Wa0001
আরো পড়ুন
Img 20260930 Wa0001
আরো পড়ুন
মোবারকগঞ্জ সুগার মিলস্ লিমিটেড
আরো পড়ুন
ঝিনাইদহ সদর হাসপাতাল
আরো পড়ুন
চায়না দুয়ারি জাল জব্দ করে
আরো পড়ুন
Scroll to Top