কালীগঞ্জ (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি:
কালীগঞ্জে শিক্ষকদের গাইড বাণিজ্য: শিক্ষার্থীদের জিম্মি করে চাঁদাবাজির অভিযোগ। ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের গাইড বই কিনতে বাধ্য করা এবং এর বিনিময়ে বড় অঙ্কের অর্থ লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে, যা জনমনে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। অভিযোগ রয়েছে, পাঞ্জেরী প্রকাশনীর এজেন্টদের সঙ্গে যোগসাজশ করে শিক্ষকদের একটি অংশ শিক্ষার্থীদের নির্দিষ্ট গাইড বই কিনতে বাধ্য করছেন। বুকলিস্টের মাধ্যমে এই চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছে। এর বিনিময়ে সমিতির রূপালী ব্যাংক, কালীগঞ্জ শাখার হিসাব নম্বর ৮৪৭-এ প্রায় ২৪ লাখ টাকা জমা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
গত ৯ ফেব্রুয়ারি এই লেনদেন সামনে আসার পর বিষয়টি আলোচনায় আসে। তবে সমিতির সদস্য সচিব ও বিসিএস মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আহসান হাবীব এ বিষয়ে কিছু জানেন না বলে দাবি করেছেন। পাঞ্জেরী প্রকাশনীর বিক্রয় প্রতিনিধি সুমন স্বর্ণকার বলেন, “মার্কেটিংয়ের জন্য উপঢৌকন দেওয়া হয়, অনেক ক্ষেত্রে এজেন্ট বা কোম্পানি সরাসরি এটি করে থাকে।”
বিষয়টি গণমাধ্যমে প্রকাশের পর গত ১৯ ফেব্রুয়ারি জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা লুৎফর রহমান একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেন। পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দেওয়ার কথা থাকলেও এখনো তা জমা হয়নি, যা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। উপজেলা শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, কালীগঞ্জে ৫২টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে প্রায় ২০ হাজার শিক্ষার্থী রয়েছে। অভিভাবকদের অভিযোগ, গাইড নির্ভরতা শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা নষ্ট করছে। জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা জানান, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্তাধীন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেজওয়ানা নাহিদ বলেন, অভিযোগ প্রমাণিত হলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সচেতন মহলের মতে, শিক্ষা খাতে এ ধরনের অনিয়ম বন্ধে দ্রুত তদন্ত শেষ করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি, নইলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ওপর এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।