ঝিনাইদহ প্রতিবেদক
ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুরে চলন্ত বাসে ডাবের পানির সাথে চেতনাশক মিশিয়ে এক স্কুলশিক্ষিকাকে অচেতন করে স্বর্ণালংকার লুটের ঘটনায় আন্তঃবিভাগীয় অজ্ঞান পার্টির দুই সক্রিয় সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সোমবার (২৪ আগস্ট) রাতে জেলা পুলিশের সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন সেল ও কোটচাঁদপুর থানা পুলিশের যৌথ অভিযানে গাজীপুর ও মাগুরা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন খুলনা জেলার ফুলতলা উপজেলার আলকা দামোদর গ্রামের দুলাল হাওলাদার ওরফে ‘মলম দুলাল’ (৪০) এবং মাগুরা সদর উপজেলার বোগিয়া গ্রামের তিলক খান (৪৪)।
জেলা পুলিশের প্রেস বিজ্ঞপ্তি সূত্রে জানা যায়, গত ২৯ জুন যশোর থেকে ‘শাপলা পরিবহনের’ একটি বাসে কোটচাঁদপুরে ফিরছিলেন স্থানীয় এক মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা। বাসটি কোটচাঁদপুরের এলাঙ্গী বাজার এলাকায় পৌঁছানোর আগে অজ্ঞান পার্টির সদস্যরা কৌশল অবলম্বন করে তাকে ডাবের পানি পান করায়। পানি পান করার পরপরই তিনি সংজ্ঞাহীন হয়ে পড়েন। পরে ভুক্তভোগীর স্বামী বাসে গিয়ে তাকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করেন। এ সময় চক্রের সদস্যরা তার সাথে থাকা স্বর্ণের চেইন, আংটি ও খাড়ু নিয়ে সটকে পড়ে। এ ঘটনায় ৩০ জুন ভুক্তভোগীর স্বামী বাদী হয়ে কোটচাঁদপুর থানায় মামলা দায়ের করেন।
ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনে ঝিনাইদহের পুলিশ সুপার সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন সেল ও কোটচাঁদপুর থানা পুলিশকে নির্দেশ দেন। পরবর্তীতে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় আসামিদের অবস্থান শনাক্ত করে গাজীপুরের টঙ্গী এবং মাগুরা সদর এলাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার দুজনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় নেশাজাতীয় দ্রব্য খাইয়ে লুটপাট ও ছিনতাইয়ের একাধিক মামলা রয়েছে।
সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন সেলের উপপরিদর্শক (এসআই) ইখলাচুর রহমান জানান, প্রযুক্তির সাহায্যে অবস্থান নিশ্চিত করে অভিযান চালিয়ে আসামিদের গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে।
এ বিষয়ে ঝিনাইদহের পুলিশ সুপার মিয়া মোহাম্মদ আশিস বিন হাসান বলেন, জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জেলা পুলিশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। অপরাধী যে-ই হোক, তদন্তের মাধ্যমে তাকে আইনের আওতায় আনা হবে। অজ্ঞান পার্টিসহ সংঘবদ্ধ চক্রগুলোর বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।