কোটচাঁদপুর (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি:
ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুরে একটি আবাসিক মাদ্রাসার তিন শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের (বলাৎকার) অভিযোগে প্রধান শিক্ষক আবুল বাশারকে (৪০) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আজ মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে তাঁকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
গ্রেপ্তার আবুল বাশার কোটচাঁদপুর উপজেলার হরিন্দিয়া গ্রামের বাসিন্দা। তিনি কোটচাঁদপুর পৌরসভার দুধসর এলাকায় অবস্থিত দারুল উলুম মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। ভুক্তভোগী তিন শিশু ওই মাদ্রাসার আবাসিক শিক্ষার্থী।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কয়েক দিন ধরে ওই তিন শিক্ষার্থীকে ভয়ভীতি দেখিয়ে ধর্ষণ করে আসছিলেন প্রধান শিক্ষক আবুল বাশার। সোমবার এক শিক্ষার্থীর দাদা মাদ্রাসায় নাতিকে দেখতে এলে ভুক্তভোগী শিশুটি তাঁর কাছে পুরো ঘটনা বিস্তারিত জানায়। বিষয়টি জানতে পেরে পরিবারের সদস্যরা সন্ধ্যায় মাদ্রাসায় এসে ওই শিক্ষকের ওপর চড়াও হন।
খবর পেয়ে কোটচাঁদপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযুক্ত শিক্ষককে আটক করে। এ সময় তাঁর ব্যক্তিগত কক্ষ থেকে যৌন উত্তেজক বিভিন্ন ধরনের ওষুধ উদ্ধার করা হয়।
ঘটনার পর সোমবার রাতে ভুক্তভোগী এক শিক্ষার্থীর বাবা বাদী হয়ে কোটচাঁদপুর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন। এজাহারে তাঁর ছেলেসহ তিন শিশুকে ধর্ষণের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে কোটচাঁদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী হাসান জানান, মামলা দায়েরের পর আটক আবুল বাশারকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে দুপুরে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
এদিকে অভিযুক্তের রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে তবে স্থানীয়দের ধারণা তিনি কওমী ধারার মাদরাসার শিক্ষক হওয়ায় হেফাজত, ইসলামী আন্দোলনের নেতা বা কর্মী হবেন।
এ বিষয়ে কোটচাঁদপুর পৌর জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা আব্দুল কাইয়ুম জানান, আবুল বাশার তাঁদের দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত নন।
অন্যদিকে উপজেলা হেফাজতে ইসলামের সহসভাপতি মাওলানা ইব্রাহিম খলিল জানান, অভিযুক্ত শিক্ষক হেফাজতে ইসলামের সঙ্গে জড়িত থাকলেও তাঁর কোনো পদ আছে কি না তা নিশ্চিত নয়।
কোটচাঁদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী হাসান জানান, ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর বাবার দায়ের করা মামলায় আবুল বাশারকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে দুপুরে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।