কালীগঞ্জ প্রতিনিধি
গরু চুরির সন্দেহে গণপিটুনিতে নিহতের ঘটনায় আসামি ২০০ শতাধিক, তদন্তে নেমেছে পুলিশ। ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলায় গরু চুরির অভিযোগে গণপিটুনিতে হাবিব নামে এক ব্যক্তি নিহত এবং সুমন নামে অপর একজন গুরুতর আহত হয়েছেন। নিহত হাবিব ও আহত সুমন—উভয়ের বাড়ি যশোর এলাকায় বলে জানা গেছে। গত শুক্রবার ভোরে উপজেলার বাদুড়গাছা গ্রামে এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে। এ ঘটনায় থানায় পৃথক দুটি মামলা দায়ের করা হয়েছে, যাতে দুই শতাধিক অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিকে আসামি করা হলেও এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার ভোরে বাদুড়গাছা গ্রামের বাসিন্দা নিলুফা ইয়াসমিনের বাড়িতে গরু চুরির উদ্দেশ্যে প্রবেশ করেন ওই দুজন। বিষয়টি টের পেয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা তাদের ঘিরে ফেলে এবং ধাওয়া দিয়ে ধরে ফেলে। পরে উত্তেজিত জনতা বাঁশের সাথে হাত-পা বেঁধে তাদের ওপর গণপিটুনি চালায়। এতে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান হাবিব।
সংবাদ পেয়ে শনিবার সকালে কালীগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিহত হাবিবের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঝিনাইদহ সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। একই সঙ্গে মুমূর্ষু অবস্থায় সুমনকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তিনি পুলিশ হেফাজতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এ ঘটনায় আইনি পদক্ষেপ হিসেবে কালীগঞ্জ থানায় পৃথক দুটি মামলা নথিভুক্ত করা হয়েছে:
গরু চুরির মামলা: ক্ষতিগ্রস্ত গৃহস্থ নিলুফা ইয়াসমিন বাদী হয়ে চুরি ও চুরির চেষ্টার অভিযোগে অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রথম মামলাটি করেন।
হত্যা ও গণপিটুনির মামলা: গণপিটুনিতে আহত সুমনের ভাই, যশোরের আরাপপুর এলাকার বাসিন্দা জাহাঙ্গীর হোসেন বাদী হয়ে হত্যা ও প্রাণঘাতী হামলার অভিযোগে দুই শতাধিক অজ্ঞাতনামা ব্যক্তির বিরুদ্ধে দ্বিতীয় মামলাটি দায়ের করেন।
মামলা দুটির তদন্ত কর্মকর্তা ও বারোবাজার পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) আবুল কালাম আজাদ জানান, ঘটনার পারিপার্শ্বিক আলামত এবং মোবাইল ফুটেজ ও ভিডিও বিশ্লেষণ করে গণপিটুনিতে সরাসরি জড়িতদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।
কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কবির হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, “আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। পৃথক দুটি মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং অপরাধীদের চিহ্নিত করে গ্রেপ্তারে পুলিশের বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”