শহর প্রতিবেদক
ঝিনাইদহ শহরের বহু প্রতীক্ষিত আধুনিক পৌর সুপারমার্কেট নির্মাণকাজ আইনি জটিলতায় পড়ে সাড়ে পাঁচ বছরেরও বেশি সময় ধরে বন্ধ রয়েছে। শহরের প্রাণকেন্দ্রে ৬৭ শতক জমির ওপর প্রায় ৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে ২০১৯ সালে বিশ্বব্যাংক ও বাংলাদেশ মিউনিসিপ্যাল ডেভেলপমেন্ট ফান্ডের (বিএমডিএফ) যৌথ অর্থায়নে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়। তবে দীর্ঘ দিন কাজ থমকে থাকায় একদিকে যেমন কোটি কোটি টাকার সরকারি সম্পদ নষ্ট হচ্ছে, অন্যদিকে থমকে গেছে শহরের অর্থনৈতিক সম্ভাবনা ও নাগরি সেবার মান।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, এই ৬ তলা বিশিষ্ট ভবনে আধুনিক শপিং স্পেসের পাশাপাশি কিডস জোন, নারী উদ্যোক্তা কর্নার, সাধারণ উদ্যোক্তা কর্নার, মিনি আইটি পার্ক, জিমনেসিয়াম, কমিউনিটি সেন্টার এবং আধুনিক গাড়ি পার্কিংসহ নানা নাগরিক সুবিধার সুযোগ যুক্ত ছিল। তবে সুপারমার্কেটটি যে স্থানে নির্মাণ করা হচ্ছে, সেখানে আগে একটি শিশু পার্ক ছিল। এ কারণে পরিবেশবাদী সংগঠন বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা) উচ্চ আদালতে রিট করলে আদালত নির্মাণকাজে স্থিতাবস্থা জারি করেন। এর প্রেক্ষিতে ২০২০ সালের ৬ সেপ্টেম্বর থেকে প্রকল্পটির কাজ সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়।
দীর্ঘদিন কাজ বন্ধ থাকায় সরেজমিনে দেখা গেছে এক হতাশাজনক চিত্র। নির্মাণাধীন ভবনের বেজমেন্টে জমে থাকা পানিতে এখন স্থানীয়ভাবে মাছ চাষ করা হচ্ছে এবং চারপাশে জন্মেছে আগাছা। দীর্ঘদিন রোদ, বৃষ্টি ও পানির সংস্পর্শে থেকে খোলা আকাশের নিচে পড়ে থাকা লোহার রডসহ বিভিন্ন মূল্যবান নির্মাণসামগ্রীতে মরিচা ধরে নষ্ট হচ্ছে, যা গুণগত মানকেও প্রশ্নের মুখে ফেলছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ী চঞ্চল মাহমুদ জানান, এই মার্কেট চালু হলে ঝিনাইদহের ব্যবসার চিত্রই বদলে যেত এবং শত শত ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ী আধুনিক পরিবেশে ব্যবসার সুযোগ পেতেন। প্রতিদিন কোটি কোটি টাকার সরকারি স্থাপনা এভাবে নষ্ট হতে দেখে হতাশা প্রকাশ করে স্থানীয় বাসিন্দা হাফিজুর রহমান বলেন, সরকারি প্রকল্প এভাবে ফেলে রাখা অগ্রহণযোগ্য। সচেতন নাগরিক সুজন বিপ্লবের মতে, এটি কেবল একটি ভবনের বিষয় নয়, বরং দীর্ঘদিন ধরে ঝিনাইদহের অর্থনৈতিক সম্ভাবনাও আটকে আছে।
বিষয়টি নিয়ে ঝিনাইদহ পৌরসভার প্রশাসক রথীন্দ্রনাথ রায় জানিয়েছেন, আদালতে চলমান মামলার কারণেই নির্মাণকাজ বন্ধ রয়েছে। তবে আইনি জটিলতা নিরসনে পৌরসভার নিয়োগপ্রাপ্ত আইনজীবী কাজ করছেন। আদালতের নির্দেশনা ও মামলা নিষ্পত্তি হওয়া মাত্রই দ্রুত কাজ পুনরায় শুরু করা হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।