নিজস্ব সংবাদদাতা:
পুরোনো বাইক কিনে বিপাকে জামায়াত নেতা, ২ বছর পর চোরাই বলে জব্দ। দুই বছর আগে ৮০ হাজার টাকায় কেনা একটি পুরোনো মোটরসাইকেল নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলছে চরিত্রহননের প্রচারণা, যেখানে ভুক্তভোগীই এখন আসামির কাঠগড়ায়। ভুক্তভোগীকে ঘিরে চলছে সংবাদমাধ্যম ও রাজনৈতিক বিরোধীদের মিথ্যা প্রোপাগান্ডা। বাইক কেনার পর কেটে গেছে প্রায় দুই বছর। ব্যবসার কাজে নিয়মিত চলেছে বাইকটি, রাস্তায় চলেছে প্রকাশ্যেই। কিন্তু হঠাৎ সেই বাইকই চোরাই সন্দেহে জব্দ করল গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। আর ঘটনাটিকে ঘিরে এখন উঠছে নতুন প্রশ্ন, শুরু হয়েছে নানা আলোচনা।
ঘটনাটি ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার ১ নম্বর সুন্দরপুর ইউনিয়নের কমলাপুর গ্রামের ব্যবসায়ী আব্দুল মান্নান (মনা)কে ঘিরে। তিনি চাল ও ধানের বিচালি ব্যবসা করেন। পরিবারের দাবি, মোটরসাইকেলটি কেনার সময় তিনি স্বাভাবিকভাবেই বিক্রেতার ওপর আস্থা রেখেছিলেন এবং প্রয়োজনীয় নথিপত্রও সম্পন্ন করেছিলেন। তাই দুই বছর পর বাইকটি চোরাই হিসেবে জব্দ হওয়ার ঘটনায় তিনি নিজেই প্রতারণার শিকার হয়েছেন।
জানা গেছে, প্রায় দুই বছর আগে একই ইউনিয়নের আলাইপুর গ্রামের মোটরসাইকেল মিস্ত্রি রতনের মাধ্যমে হরিণাকুন্ডু উপজেলার ভবানীপুর গ্রামের মো. মনির হোসেনের কাছ থেকে ৮০ হাজার টাকায় ব্যবহৃত ডিসকভারি ১২৫ সিসি মোটরসাইকেলটি কেনেন আব্দুল মান্নান।
কেনাবেচার সময় শুধু কথার ওপর নির্ভর করেননি তিনি। ঝিনাইদহের নোটারি পাবলিকের কার্যালয়ে এফিডেভিট সম্পন্ন করা হয়। সেখানে অ্যাডভোকেট মো. আজিজুর রহমান সনাক্তকারী হিসেবে স্বাক্ষর করেন। এরপর সেই বাইক নিয়েই স্বাভাবিকভাবে চলতে থাকে ব্যবসায়িক কাজ।
কিন্তু গল্পের মোড় ঘুরে যায় প্রায় দুই বছর পর। সম্প্রতি ডিবি পুলিশ মোটরসাইকেলটি চোরাই সন্দেহে জব্দ করে। এতদিন পর বাইকটি চোরাই হিসেবে শনাক্ত হওয়ার ঘটনায় এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে নানা আলোচনা। পরিবারের দাবি, আব্দুল মান্নান কোনো অপরাধের সঙ্গে জড়িত নন; বরং তিনি যদি কোনো অনিয়মের শিকার হয়ে থাকেন, তাহলে এর প্রকৃত দায়ীদের খুঁজে বের করা প্রয়োজন।
ঘটনাটি সামনে আসার পর আব্দুল মান্নানের ছেলে ও স্থানীয় জামায়াত নেতা সাইদুর রহমান ডাবলুর নামও আলোচনায় আসে। পরিবারের অভিযোগ, মোটরসাইকেল জব্দের ঘটনাকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করে ডাবলুর সামাজিক ও রাজনৈতিক ভাবমূর্তি নষ্ট করার উদ্দেশ্যে নানা ধরনের অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।
পরিবারের বক্তব্য, একজন সাধারণ ব্যবসায়ী হিসেবে আব্দুল মান্নান বিশ্বাস করে একটি পুরোনো মোটরসাইকেল কিনেছিলেন। কেনাবেচার সময় নথিপত্র ও এফিডেভিটও করা হয়েছিল। তাই দুই বছর পর সেটি চোরাই হিসেবে ধরা পড়লে প্রথম প্রশ্ন হওয়া উচিত, প্রকৃতপক্ষে কার কাছ থেকে কীভাবে মোটরসাইকেলটি এসেছে এবং কোথায় ঘটেছে অনিয়ম।
এখন তদন্তের দিকেই তাকিয়ে পরিবার ও স্থানীয়রা। বাইকটির প্রকৃত মালিকানা, ক্রয়-বিক্রয়ের ধারাবাহিকতা এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা তদন্তে স্পষ্ট হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
পরিবারের দাবি, সত্য উদঘাটন হোক, প্রকৃত অপরাধী শনাক্ত হোক। তবে তদন্তের ফলাফল আসার আগেই কোনো নির্দোষ ব্যক্তিকে সামাজিক বা রাজনৈতিকভাবে হেয় করা কিংবা চরিত্রহননের প্রচারণা চালানো থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।