Jinaidoho 1

ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসনের দাবিতে কালীগঞ্জে মানববন্ধন, মহাসড়ক অবরোধ

Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!

কালীগঞ্জ (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি:

ঝিনাইদহ-যশোর মহাসড়ক ছয় লেনে উন্নীতকরণ প্রকল্পে জমি অধিগ্রহণে ক্ষতিগ্রস্ত কালীগঞ্জের ব্যবসায়ী, শ্রমিক ও কর্মচারীরা ন্যায্য ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসনের দাবিতে মানববন্ধন ও সড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালন করেছেন।

সোমবার (২ নভেম্বর) সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত কালীগঞ্জ শহরের মেইন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এ কর্মসূচি পালিত হয়। এতে ঝিনাইদহ-যশোর মহাসড়কে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ যাত্রী ও পরিবহন সংশ্লিষ্টরা।

আন্দোলনকারীরা জানান, ছয় লেন প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য তাদের দোকানপাট ও জীবিকার একমাত্র অবলম্বন উচ্ছেদের উদ্যোগ নেওয়া হলেও এখনো কোনো দৃশ্যমান বা যৌক্তিক ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়নি। এতে কালীগঞ্জের শত শত ব্যবসায়ী এবং তাঁদের অধীনে কর্মরত শ্রমিক-কর্মচারী পরিবার-পরিজন নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন।

মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, একই প্রকল্পের আওতায় যশোর জেলার অংশে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী ও শ্রমিক-কর্মচারীদের ক্ষতিপূরণ দেওয়া হলেও কালীগঞ্জসহ ঝিনাইদহ জেলার ক্ষতিগ্রস্তরা এখনো তা পাননি। এ বিষয়ে ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসকের কাছে একাধিকবার লিখিত আবেদন করেও কোনো জবাব মেলেনি। তাঁরা এ বৈষম্যের অবসান এবং ক্ষতিপূরণের জন্য বরাদ্দকৃত অর্থের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করতে তদন্তের দাবি জানান।

বক্তারা আরও বলেন, ন্যায্য ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসন নিশ্চিত না করে কোনো ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বা স্থাপনা অপসারণ করতে দেওয়া হবে না। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত কালীগঞ্জ অংশে প্রকল্পের কার্যক্রম পরিচালনা করতেও বাধা দেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন তাঁরা।

মানববন্ধন শেষে আন্দোলনকারীরা কালীগঞ্জ শহরের মেইন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় মহাসড়কের ওপর বসে অবরোধ শুরু করেন। এতে ঝিনাইদহ-যশোর এবং কালীগঞ্জ-জীবননগর সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। আটকা পড়ে শত শত যাত্রীবাহী বাস ও পণ্যবাহী ট্রাক।

খবর পেয়ে কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জুলফিকার আলী ঘটনাস্থলে পৌঁছে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং অবরোধ তুলে নেওয়ার আহ্বান জানান। তবে ক্ষতিগ্রস্তদের সুনির্দিষ্ট দাবি পূরণ ও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের আশ্বাস ছাড়া তাঁরা অবরোধ প্রত্যাহারে রাজি হননি।

পরে কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেজওয়ানা নাহিদ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি আশ্বাস দেন, উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের কারণে সাধারণ ব্যবসায়ী ও শ্রমিক-কর্মচারীরা যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হন, সে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হবে। দ্রুত অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করে আইনগতভাবে যৌক্তিক ও ন্যায্য সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

ইউএনওর আশ্বাসে দুপুর ১২টার দিকে আন্দোলনকারীরা অবরোধ তুলে নেন। এরপর কালীগঞ্জের মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসনের দাবিতে কালীগঞ্জের ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী ও শ্রমজীবী মানুষের এই আন্দোলন ছয় লেন প্রকল্প বাস্তবায়নে স্থানীয় অংশীজনদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করার বিষয়টি নতুন করে সামনে এনেছে।

আরো পড়ুন
বাল্যবিবাহ রোধে ঝিনাইদহে ‘তারুণ্যের কণ্ঠ’ প্রামাণ্য অনুষ্ঠান
পুকুরে ডুবে
ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়
কালীগঞ্জে ৭ নভেম্বর পালনের প্রস্তুতি সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত
আরো পড়ুন
মহেশপুরে নারী সমাবেশ অনুষ্ঠিত, বাল্যবিবাহ ও মানব পাচার প্রতিরোধে সচেতনতার আহ্বান
Img 20261101 Wa00011
আরো পড়ুন
Scroll to Top