কালীগঞ্জ (ঝিনাইদহ):
কালীগঞ্জে কালবৈশাখীর তাণ্ডব: গাছের ডালে পিষে গেল দোকান। ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে রাতের তাণ্ডবী বৃষ্টি ও দমকা হাওয়ায় ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে একটি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান। পৌর শহরের ব্যস্ততম বৈশাখী মোড় সংলগ্ন ভূষণ রোডে একটি প্রাচীন কড়ই গাছের বিশাল ডাল ভেঙে পড়ে পুরো দোকান ঘরটি চুরমার হয়ে যায়। এতে মারাত্মক আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন ব্যবসায়ী এবং জীবিকা হারানোর ঝুঁকিতে পড়েছেন একাধিক কর্মচারী।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার দিবাগত রাতে হঠাৎ করেই আবহাওয়ার পরিবর্তন ঘটে এবং তীব্র ঝড়ো হাওয়ার সাথে বৃষ্টি শুরু হয়। রাত গভীর হওয়ায় সড়কের পাশে থাকা বহু পুরোনো কড়ই গাছটির একটি সুবিশাল ডাল ভারী হয়ে সশব্দে নিচের দোকানটির ওপর আছড়ে পড়ে।
গাছের ডালের ভারে মুহূর্তের মধ্যেই দোকানটির টিনের চালা ও কাঠের কাঠামো ভেঙে দুমড়ে-মুচড়ে যায়। বিকট শব্দে আশপাশের মানুষ ছুটে এলেও ততক্ষণে মালামালের বড় অংশ ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়। তবে দুর্ঘটনাটি গভীর রাতে ঘটায় কোনো প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি। প্রাথমিক ধারণামতে, ভেতরের আসবাবপত্র, ইলেকট্রনিক্স সরঞ্জাম ও মালামাল নষ্ট হওয়ায় কয়েক লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।
নিঃস্ব দোকান মালিক জানান, “আমার উপার্জনের একমাত্র অবলম্বন ছিল এই দোকানটি। এক রাতের ঝড়ে আমার সব স্বপ্ন ধুলোয় মিশে গেছে। এত বড় ক্ষতি সামলে উঠে আবার ব্যবসা দাঁড় করানো আমার একার পক্ষে অসম্ভব।” — কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী।
শুধু ব্যবসায়ী নন, এই দুর্ঘটনার ধাক্কা এসে লেগেছে সেখানে কর্মরত ৪-৫ জন কর্মচারীর পরিবারেও। উপার্জন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তারা এখন চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। কর্মচারীদের দাবি, দ্রুত দোকানটি চালু করার ব্যবস্থা না করা গেলে তাদের পরিবারকে অনাহারে দিন কাটাতে হবে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, বৈশাখী মোড় ও ভূষণ রোড এলাকায় এমন অনেক পুরোনো ও মরা গাছ রয়েছে, যা সামান্য বাতাসেই হেলে পড়ে। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, এসব মরা ও ঝুঁকিপূর্ণ ডালপালা দ্রুত অপসারণ না করলে সামনে আরও বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা থেকেই যায়। তারা পৌর কর্তৃপক্ষের কাছে জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
ঘটনার খবর পেয়ে স্থানীয় প্রতিনিধি ও সাধারণ মানুষ দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে সমবেদনা প্রকাশ করেছেন।
পৌরসভা সূত্র, কালীগঞ্জ পৌরসভার দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দুর্ঘটনাকবলিত এলাকাটি পরিদর্শন করে ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ করা হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে সাধ্যমতো সহায়তার আশ্বাস দেওয়ার পাশাপাশি শহরের ঝুঁকিপূর্ণ গাছগুলো চিহ্নিত করে দ্রুত কেটে ফেলার উদ্যোগ নেওয়া হবে।