নিজস্ব প্রতিবেদক
কাগজে পর্যাপ্ত থাকলেও ঝিনাইদহের মাঠে মিলছে না সার, চরম বিপাকে কৃষক। মাঠজুড়ে সবুজ ধানের চারা বেড়ে ওঠার এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে ঝিনাইদহের কৃষকদের প্রধান চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে সার। জমিতে সার প্রয়োগের সঠিক সময়ে দোকানে দোকানে ঘুরেও মিলছে না কাঙ্ক্ষিত ইউরিয়া, টিএসপি কিংবা ডিএপি। প্রান্তিক কৃষকদের অভিযোগ, নির্ধারিত দামে সার না পাওয়া গেলেও অসাধু ব্যবসায়ীদের বাড়তি টাকা দিলেই রাতারাতি মিলছে সার। সরকারি খাতায় চাহিদার শতভাগ সরবরাহ দেখানো হলেও মাঠপর্যায়ের এই চিত্র চরম অসঙ্গতি তৈরি করেছে।
ঝিনাইদহ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে জেলায় সারের মোট চাহিদার পুরোটাই বরাদ্দ ও সরবরাহ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে:
ইউরিয়া: ৬০,৫৫২ মেট্রিক টন, টিএসপি: ২৪,৯৩৭ মেট্রিক টন, ডিএপি: ৪১,৫৫৮ মেট্রিক টন, এমওপি: ২৪,৭৩৮ মেট্রিক টন।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী পর্যাপ্ত মজুত থাকলেও বাস্তবে খালি হাতে ফিরতে হচ্ছে চাষিদের। শৈলকুপা উপজেলার দামুকদিয়া গ্রামের কৃষক টিপু সুলতান জানান, দুই বিঘা জমিতে ধান রোপণ করেছেন তিনি। চারা বেড়ে ওঠার এই সংবেদনশীল সময়ে সার না পেলে পুরো মৌসুমের আবাদ মার খাবে। কৃষকদের মতে, সারের দাম শুধু একটি উপকরণের খরচ নয়, এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে তাদের পুরো পরিবারের জীবিকা ও ঋণের হিসাব।
কৃষকদের অভিযোগ, ডিলার ও খুচরা বিক্রেতাদের সিন্ডিকেটের কারণেই বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করা হচ্ছে। বরাদ্দকৃত সার সময়মতো ও সঠিক মূল্যে কৃষকের হাতে পৌঁছাতে ডিলার পয়েন্ট এবং খুচরা বাজারে কঠোর প্রশাসনিক মনিটরিং চালানোর দাবি জানিয়েছেন তারা।
সার সংকটের কথা অস্বীকার করে ঝিনাইদহ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. কামরুজ্জামান জানান, জেলায় কোনো সারের ঘাটতি নেই। চাহিদানুযায়ী পর্যাপ্ত বরাদ্দ রয়েছে। তিনি বলেন, “কোনো ডিলার বা খুচরা বিক্রেতা সারের কৃত্রিম সংকট তৈরি করলে কিংবা নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দাম নিলে তদন্ত করে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলেই অভিযান চালানো হবে।”

