1 9f3591

টাইপ বি ব্যক্তিত্ব: কম চাপ, স্বস্তির জীবন নাকি অলসতার তকমা

লাইফস্টাইল ডেস্ক

Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!

জীবনের প্রতিটি পদক্ষেপে অতিরিক্ত মানসিক চাপ এড়িয়ে যারা সবসময় স্বাচ্ছন্দ্যময় ও সহজ জীবনযাপন করতে পছন্দ করেন, মনোবিজ্ঞানের ভাষায় তাদের টাইপ বি ব্যক্তিত্বের অধিকারী হিসেবে বিবেচনা করা হয়। উচ্চাভিলাষী ও নিখুঁত কাজের তাগিদ অনুভবকারী টাইপ এ ব্যক্তিত্বের মানুষের ঠিক বিপরীত অবস্থানে রয়েছে এই শান্ত স্বভাবের মানুষগুলো। গত শতাব্দীর পঞ্চাশের দশকে হৃদরোগের সঙ্গে মানুষের ব্যক্তিত্বের কোনো সংযোগ রয়েছে কি না, তা নিয়ে গবেষণা শুরু করেছিলেন দুই মার্কিন হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ মেয়র ফ্রিডম্যান এবং রে রোজেনম্যান। তাদের হাত ধরেই মূলত এই দুই ধরনের ব্যক্তিত্বের ধারণাটি প্রথমবারের মতো সামনে আসে এবং পরবর্তী সময়ে তা মনোবিজ্ঞানে ব্যাপক স্বীকৃতি লাভ করে।

এই প্রকৃতির মানুষেরা সাধারণত যেকোনো ধরনের চরম প্রতিযোগিতাপূর্ণ পরিবেশ এবং ইঁদুর দৌড় এড়িয়ে চলতে ভালোবাসেন। তাদের অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্যের মধ্যে রয়েছে যেকোনো পরিবর্তনের সঙ্গে সহজে মানিয়ে নেওয়ার চমৎকার ক্ষমতা এবং তীব্র মানসিক চাপহীন জীবন কাটানোর প্রবণতা। তাড়াহুড়ো করে কোনো কাজ করার মানসিকতা তাদের মধ্যে সচরাচর দেখা যায় না এবং অত্যন্ত সংকটপূর্ণ পরিস্থিতিতেও তারা মাথা ঠান্ডা রেখে পরিস্থিতি সামাল দিতে পারেন। এছাড়া গতানুগতিক কাজের চেয়ে সৃজনশীল চিন্তাভাবনা ও নতুন উপায়ে কাজ করার ঝোঁক তাদের মধ্যে বেশি থাকে। তবে এই চরিত্রের একটি বড় সীমাবদ্ধতা হলো কাজ শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত জমিয়ে রাখা বা প্রোকাস্টিনেশনের অভ্যাস।

টাইপ বি ব্যক্তিত্বের মানুষের সবচেয়ে বড় ইতিবাচক দিক হলো তাদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য তুলনামূলকভাবে ভালো থাকে। কম মানসিক চাপের কারণে তাদের মধ্যে উচ্চ রক্তচাপ, অতিরিক্ত ওজন এবং হৃদরোগের মতো মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি অনেকটাই কম দেখা যায়। তবে মুদ্রার উল্টো পিঠে তাদের অতিরিক্ত ঢিলেঢালা স্বভাবের কারণে স্বাস্থ্য সচেতনতার অভাবও লক্ষ্য করা যায়, যার ফলে অনেক সময় তারা নিয়মিত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে উদাসীন থাকেন। স্বভাবগতভাবে এরা ভীষণ অমায়িক, ধৈর্যশীল ও ভালো শ্রোতা হয়ে থাকেন এবং ছোটখাটো বিষয় নিয়ে অযথা ঝামেলা এড়াতে পছন্দ করেন। অতিরিক্ত নমনীয়তার কারণে অনেক সময় তারা অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে পিছপা হন এবং সহজেই অন্যের সুযোগ নেওয়ার শিকার হন।

শিক্ষা ও কর্মক্ষেত্রে এই ধরনের মানুষেরা বেশ ভালো ফলাফল করলেও তাদের শান্ত স্বভাবের জন্য অনেক সময় ভুল বোঝাবুঝির শিকার হতে হয়। অনেক সময় সহকর্মী বা ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা তাদের কাজের ধীরগতি দেখে অলস বা অকর্মণ্য হিসেবে ভুল মূল্যায়ন করেন। আধুনিক প্রতিযোগিতাপূর্ণ বিশ্বে এই মানুষেরা আমাদের মনে করিয়ে দেন যে জীবনের প্রতিটি মুহূর্তে সর্বোচ্চ গতিতে ছোটার কোনো প্রয়োজন নেই, বরং একটু থেমে স্বস্তির নিঃশ্বাস নেওয়াও সমানভাবে জরুরি। তবে সফলভাবে জীবন পরিচালনা করতে হলে তাদের কিছু সুনির্দিষ্ট চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হয়।

কর্মক্ষেত্রে বা ব্যক্তিগত জীবনে সফল হতে হলে এই ব্যক্তিত্বের মানুষদের সময় ব্যবস্থাপনার প্রতি বিশেষ নজর দেওয়া প্রয়োজন। কাজ শেষ মুহূর্তের জন্য জমিয়ে না রেখে সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য বা ছোট ছোট শিডিউল তৈরি করে তা বাস্তবায়ন করা উচিত। এছাড়া জীবনের লাগাম একদম আলগা না ছেড়ে সুনির্দিষ্ট দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য স্থির করা এবং কর্মক্ষেত্রে নিজেদের কঠোর পরিশ্রম ও অবদান অন্যদের সামনে স্পষ্টভাবে তুলে ধরা জরুরি, যাতে কেউ তাদের ভুল বুঝতে না পারে।

আরো পড়ুন
ঝিনাইদহে সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগে কর্মচারী আটক
ঝিনাইদহের ব্যবসায়ী সুলতান হত্যা মামলায় ১৩ বছর পর প্রধান আসামি গ্রেপ্তার
ঝিনাইদহে দুই সাংবাদিকের ওপর হামলা, চাঁদাবাজির মামলায় গ্রেপ্তার
মহেশপুরে সারের কার্ড ভাগাভাগি নিয়ে দুপক্ষের সংঘর্ষ, আহত ১২
ঝিনাইদহের সীমান্তে ৩ ভারতীয়সহ আটক ৯
সিপিবি কার্যালয়ে হামলা ও বীর মুক্তিযোদ্ধার দাফনে বাধার প্রতিবাদে ঝিনাইদহে মশাল মিছিল
Scroll to Top