নিজস্ব প্রতিবেদক:
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন ছিল বৈধতা-সংকট, বর্জন ও গণআন্দোলনের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। বিরোধী দলবিহীন সেই নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত সংসদ জনআন্দোলনের চাপে ৪৫ দিনের ব্যবধানে স্বল্পসময়ে ভেঙে পড়ে, এবং শেষ পর্যন্ত রাজনৈতিক সমঝোতার পথেই নতুন নির্বাচনের দ্বার উন্মুক্ত হয়।
বর্তমান ২০২৬ সালের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বৈধতা, গণসমর্থন ও আন্দোলনের ভূমিকা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তীব্র হচ্ছে। গণভোটে “হ্যাঁ” বিজয়ী হওয়ার প্রশ্ন, নির্বাচনী গ্রহণযোগ্যতা এবং জুলাই আন্দোলনের রাজনৈতিক স্বীকৃতি, এসব ইস্যু নিয়ে মতপার্থক্য স্পষ্ট।
এই প্রেক্ষাপটে সমালোচনামূলক মহলের বক্তব্য, যে সংবিধানের দোহাই দিয়ে আজ বিএনপির নেতাকর্মীরা গণভোটকে প্রত্যাখ্যান করছে, সেই সংবিধানেই “গণঅভ্যুত্থান” শব্দটির কোনো সরাসরি উল্লেখ নেই। অথচ রাজনৈতিক বাস্তবতার অভিঘাতে যে গণআন্দোলনের প্রতিধ্বনি একসময় ক্ষমতাসীন শাসকদের সরে যেতে বাধ্য করেছিল এবং পরবর্তীতে নতুন রাজনৈতিক শক্তির উত্থানের পথ প্রশস্ত করেছিল, সেই ঐতিহাসিক অভিজ্ঞতাই এখন বিতর্কের কেন্দ্রে।
পর্যবেক্ষকদের একাংশের মতে, যে আন্দোলনের ঢেউ রাজনৈতিক পরিবর্তনের ভিত্তি তৈরি করে, সেই আন্দোলনের অবদান ও অংশগ্রহণকারীদের মূল্যায়ন নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হলে জনআস্থার সংকট আরও গভীর হতে পারে। জুলাই আন্দোলনের অংশগ্রহণকারীদের অবদানকে ঘিরে যে আলোচনা চলছে, তা বর্তমান রাজনৈতিক অবস্থানের নৈতিকতা ও দায়বদ্ধতার প্রশ্নকেও সামনে নিয়ে এসেছে, এমন মতও উঠে আসছে বিভিন্ন মহল থেকে।
আলোচনায় একটি প্রতীকী উপমাও উচ্চারিত হচ্ছে “উৎপত্তির পরিচয়ে সংশয় থাকলেও বৈধতার দাবি অটুট”, যা বর্তমান বিতর্কের তীক্ষ্ণতা ও রাজনৈতিক ভাষ্যের প্রতীক হয়ে উঠেছে।
অন্যদিকে বিশ্লেষকদের আরেক অংশ মনে করেন, অতীতের সঙ্গে বর্তমানের সরাসরি সমীকরণ টানা সবসময় যথাযথ নয়; বরং সংলাপ, প্রাতিষ্ঠানিক আস্থা ও অংশগ্রহণমূলক রাজনৈতিক প্রক্রিয়াই স্থিতিশীলতার একমাত্র টেকসই পথ।