ঝিনাইদহ প্রতিনিধি
ঝিনাইদহে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) আওতাধীন ১৫ দশমিক ২৮ একর আয়তনের ১৩টি সরকারি পুকুর বছরের পর বছর ধরে বেদখল হয়ে আছে। সঠিক ব্যবস্থাপনা ও তদারকির অভাবে অব্যবহৃত পড়ে থাকা এসব জলাশয় থেকে সরকার নিয়মিত রাজস্ব প্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। স্থানীয়দের মতে, পুকুরগুলো উদ্ধার করে নীতিমালা অনুযায়ী ইজারা দেওয়া হলে একদিকে যেমন সরকারের বছরে লাখ টাকার ওপর রাজস্ব আয় হতো, অন্যদিকে স্থানীয় পর্যায়ে সৃষ্টি হতো কর্মসংস্থান।
পাউবোর তথ্য অনুযায়ী, জেলা সদর, শৈলকূপা ও হরিণাকুণ্ডু উপজেলায় এসব পুকুরের অবস্থান। এর মধ্যে হরিণাকুণ্ডুতে ৪টি (৫.৪৩ একর), শৈলকূপায় ৫টি (৬.৬০ একর) এবং সদর উপজেলায় ৪টি (৩.২৫ একর) পুকুর রয়েছে। ১৩টি পুকুর থেকে প্রতি বছর সম্ভাব্য রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১ লাখ ৫২ হাজার ৫০০ টাকা। যার মধ্যে হরিণাকুণ্ডু থেকে ৫৪ হাজার, শৈলকূপা থেকে ৬৬ হাজার এবং সদর উপজেলা থেকে ৩২ হাজার ৫০০ টাকা আয় সম্ভব।
স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, সরকারি সম্পদ দীর্ঘ দিন অবৈধ দখলে থাকায় সরকার রাজস্ব হারাচ্ছে এবং সাধারণ মানুষও এর কোনো সুফল পাচ্ছে না। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে এসব দখল স্থায়ী রূপ নিতে পারে।
শৈলকূপার গাড়াগঞ্জ এলাকার বাসিন্দা ইমরান হোসেন ও রহিম মন্ডল জানান, সরকারি পুকুরগুলোর সঠিক সীমানা নির্ধারণ করে দ্রুত দখলমুক্ত করা প্রয়োজন। নিয়ম মেনে ইজারা দেওয়া হলে মাছচাষি, জেলে, শ্রমিক ও পরিবহনকর্মীসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষের কাজের সুযোগ তৈরি হবে, যা স্থানীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
এ বিষয়ে ঝিনাইদহ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রঞ্জন কুমার দাস জানান, পাউবোর অবৈধ দখলে থাকা জলাশয়গুলো চিহ্নিত করে পর্যায়ক্রমে মুক্ত করার কার্যক্রম চলমান রয়েছে। সরকারি সম্পত্তি যেন কেউ বেআইনিভাবে ভোগদখল করতে না পারে, সেজন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। দখলমুক্ত করার পর বিধি মোতাবেক ইজারা দেওয়া হলে সরকারি সম্পদের যথাযথ ব্যবহারের পাশাপাশি রাজস্ব আয় ও কর্মসংস্থানের পথ সুগম হবে।

