ঝিনাইদহ প্রতিনিধি
ঝিনাইদহে পারিবারিক দ্বন্দ্বে দুই ভাইয়ের হাতে দুই ভাই নিহত। ঝিনাইদহ সদর ও শৈলকুপা উপজেলায় পৃথক দুটি ঘটনায় আপন দুই ভাইয়ের হাতে দুই ভাই নিহত হয়েছেন। পারিবারিক কলহ এবং গাছের সুপারি পাড়াকে কেন্দ্র করে সংঘটিত এসব হত্যাকাণ্ডে এলাকা জুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
প্রথম ঘটনাটি ঘটেছে ঝিনাইদহ সদর উপজেলার বকশি-চাঁদপুর গ্রামে। পারিবারিক কলহের জেরে বড় ভাই সুমন মণ্ডলের কোদালের কোপ ও পিটুনিতে নিহত হয়েছেন ছোট ভাই সোহান মণ্ডল (২৬)। নিহত সোহান ওই গ্রামের ইজাল মণ্ডলের ছেলে।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, পারিবারিক নানা বিষয় নিয়ে সুমন মণ্ডলের সঙ্গে ছোট ভাই সোহানের স্ত্রীর প্রায়ই বাকবিতণ্ডা হতো। এর সূত্র ধরে শনিবার বিকেল ৫টার দিকে গ্রামের মাঠে দুই ভাইয়ের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। তর্কাতর্কির একপর্যায়ে সুমন পাশে থাকা কোদাল দিয়ে সোহানের মাথার পেছনে সজোরে আঘাত করেন এবং তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করেন। সোহানের চিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে এলে সুমন ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় সোহানকে উদ্ধার করে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঝিনাইদহ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসাদুজ্জামান জানান, পারিবারিক বিরোধের জেরেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। অভিযুক্ত সুমন মণ্ডলকে গ্রেফতার করতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
শৈলকুপায় সুপারি পাড়া নিয়ে সংঘর্ষে প্রাণ গেল ভাইয়ের:
অপর ঘটনাটি ঘটেছে শৈলকুপা উপজেলার ব্রহ্মপুর গ্রামে। গাছের সুপারি পাড়াকে কেন্দ্র করে ছোট ভাই রবিউল ইসলামের লাঠির আঘাতে বড় ভাই মজিবুল ইসলাম (৪৫) নিহত হয়েছেন। তিনি ওই গ্রামের মৃত মোহাম্মদ আলীর ছেলে।
স্থানীয়রা জানান, গত শুক্রবার দুপুরে মজিবুল ইসলাম বাড়ির একটি গাছ থেকে সুপারি পাড়েন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে শনিবার দুপুরে ছোট ভাই রবিউল ইসলামের সঙ্গে তার তীব্র বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে দুই পরিবারের সদস্যরা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। এ সময় রবিউলের লাঠির প্রচণ্ড আঘাতে মজিবুল, তার স্ত্রী ও ছেলে গুরুতর আহত হন।
স্থানীয় লোকজন আহতদের উদ্ধার করে শৈলকুপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়ার পথেই মজিবুলের মৃত্যু হয়। আহত স্ত্রী ও ছেলেকে হাসপাতালে ভর্তি রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
ঘটনার পরপরই অভিযুক্ত রবিউল পালিয়ে গেলেও তার স্ত্রী মিলি খাতুনকে স্থানীয়রা আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছে।
শৈলকুপা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হুমায়ুন কবির মোল্লা জানান, ছোট ভাইয়ের লাঠির আঘাতে বড় ভাই নিহত হয়েছেন। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঝিনাইদহ সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। মূল অভিযুক্ত রবিউলকে আটকের চেষ্টা চলছে।

