কালীগঞ্জ প্রতিনিধি
কালীগঞ্জে জামায়াত নেতার নামে মিথ্যা সংবাদ প্রচার: থানায় জিডি, মানহানি মামলা প্রক্রিয়াধীন। ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে প্রবাসীর স্ত্রীর সঙ্গে আপত্তিকর অবস্থায় ধরা পড়ার অভিযোগ তুলে জামায়াত নেতা বিল্লাল হোসেনের নামে বিভিন্ন জাতীয় ও স্থানীয় গণমাধ্যমে মিথ্যা সংবাদ প্রচার করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ইতোমধ্যে এ ঘটনায় থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে এবং মানহানির মামলা করার প্রক্রিয়া চলছে।
গত ১১ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ১০টার দিকে কালীগঞ্জ উপজেলার কমলাপুর গ্রামে যুব জামায়াত নেতা বিল্লাল হোসেনকে এক প্রবাসীর স্ত্রীর ঘরে আপত্তিকর অবস্থায় আটক করা হয়েছে—এমন দাবি করে আরটিভি, দৈনিক কালের কণ্ঠ ও স্থানীয় পত্রিকা সবুজ সংবাদসহ কয়েকটি গণমাধ্যম সংবাদ প্রকাশ করে।
তবে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এ ধরনের কোনো ঘটনাই ওই এলাকায় ঘটেনি। স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, রাজনৈতিকভাবে হেয় করার উদ্দেশ্যে একটি কুচক্রী মহল অসাধু সাংবাদিকদের মিথ্যা তথ্য সরবরাহ করেছে। প্রশ্ন উঠেছে, যথাযথ প্রমাণ যাচাই ছাড়াই কিভাবে জাতীয় গণমাধ্যম এ ধরনের সংবাদ প্রকাশ করল?
সংশ্লিষ্ট সংবাদে বলা হয়, বিল্লাল হোসেনকে স্থানীয়রা আটক করে মারধর করে ছেড়ে দেয়। কিন্তু ঘটনাস্থল থেকে কোনো ভিডিওচিত্র বা প্রমাণ মেলেনি। এ বিষয়ে এলাকার একাধিক বাসিন্দা জানান, “এমন কোনো ঘটনা ঘটেনি। পুরো ঘটনাটি সাজানো।”
অভিযোগ অস্বীকার করে সুন্দরপুর-দুর্গাপুর ইউনিয়ন যুব জামায়াতের সভাপতি বিল্লাল হোসেন বলেন, “আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র ও অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। রাজনৈতিকভাবে হেয় করার জন্যই মিথ্যা গল্প সাজিয়ে সংবাদ পরিবেশন করা হয়েছে।”
কালীগঞ্জ উপজেলা যুব জামায়াতের সভাপতি আব্দুল হামিদ বলেন, “বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে এমন কিছু ঘটলে সংগঠনের পক্ষ থেকে ব্যবস্থা নেওয়া হতো।”
এ বিষয়ে কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম বলেন, “আমরা ঘটনাটি লোকমুখে শুনেছি। কেউ অভিযোগ করলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
স্থানীয় রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা বলছেন, গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদে সত্যতা না থাকলে এটি শুধু ব্যক্তিগত মানহানিই নয়, গণমাধ্যমের বিশ্বাসযোগ্যতার ওপরও প্রশ্ন তোলে।