মিজানুর রহমান-
সরকারি মাহ্তাব উদ্দিন কলেজ সংস্কারে ছাত্রশিবিরের ৩০ দফা প্রস্তাবনা। ঝিনাইদহের কালীগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী সরকারি মাহ্তাব উদ্দিন কলেজ সংস্কারের ৩০ দফা প্রস্তাবনা পেশ করেছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির সরকারি মাহ্তাব উদ্দিন কলেজ শাখা।
বুধবার বেলা সাড়ে ১১ টার সময় কলেজের অধ্যক্ষ চিম্ময় বাড়ৈর নিকট এ প্রস্তাবনার স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।
এ সময় বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির ঝিনাইদহ জেলা শাখার কলেজ সম্পাদক মাজিদুল ইসলাম নাসিম, কলেজ সভাপতি মোঃ হুসাইন আহমেদ, সেক্রেটারি তালহা জুবায়ের সহ ছাত্রশিবিরের স্থানীয় বিভিন্ন পর্যায়ের দায়িত্বশীল ও কলেজের সাধারণ শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিল।
স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, পর্যাপ্ত ক্লাসরুম ও সকল শ্রেণির নিয়মিত ক্লাসের ব্যবস্থা গ্রহণ করা, শিক্ষক-কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে হাজিরা নিশ্চিতকরন, অতি দ্রুত শিক্ষক-কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের পরিচয়পত্র প্রদান এবং ক্যাম্পাসে প্রবেশে পরিচয়পত্র বাধ্যতামূলক, প্রতিটি গেটে নিরাপত্তার জন্য নিরাপত্তা প্রহরী নিয়োগ, শিক্ষার্থীদের জন্য শতকরা ৭৫% ক্লাসে উপস্থিতি বাধ্যতামূলক করা, এর কম হলে পরীক্ষায় অংশগ্রহণের অনুমতি না দেওয়া, যেসকল শিক্ষার্থীরা মাসে ৫ দিনের বেশি অনুপস্থিত থাকবে, এবং উপযুক্ত কারণ দর্শাতে না পারবে তাদের অভিভাবকদের নিয়ে মাসিক মতবিনিময় সভার আয়োজন কর, জুলাই-২৪ বিপ্লবে গণহত্যায় অংশগ্রহণকারী, উস্কানিদাতা, সহযোগিতা ও তাদের সাথে সম্পর্ক রক্ষাকারী যে সকল ছাত্র-শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী এখনো পলাতক তাদেরকে স্থায়ী বহিষ্কারের ব্যবস্থা গ্রহণ, কলেজের শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও জরুরি প্রয়োজনে যোগাযোগের জন্য একটি জরুরি হটলাইন নাম্বার চালু করতে হবে এবং সেটি ২৪ ঘন্টা সচল রাখা, শিক্ষার্থীদের পুরাতন আবাসিক হলটি দ্রুত চালু এবং নতুন হল তৈরির যথাযথ উদ্যোগ গ্রহণ করা, ছাত্র সংসদের গঠনতন্ত্র প্রণয়ন ও অতিদ্রুত ছাত্র সংসদ নির্বাচন দেওয়ার বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ, কলেজ লাইব্রেরি সংস্কার এবং সেখানে পর্যাপ্ত বইয়ের ব্যবস্থা, ক্যাম্পাসে পুরাতন ও ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলো দ্রুত অপসারণ এবং নতুন ভবন নির্মানের জন্য যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ, ক্যাম্পাসে আধুনিক, স্বাস্থ্যসম্মত ও পর্যাপ্ত ওয়াশরুম নিশ্চিত করা, ছাত্রীদের জন্য কমন রুম ও পৃথক আধুনিক ওয়াশরুমের ব্যবস্থা, ছাত্রীদের জন্য আলাদা নামাজের স্থান নিশ্চিত করা, কলেজের প্রতিটি ভবনে সুপেয় পানির ব্যবস্থা নিশ্চিত করা, কলেজের অডিটোরিয়াম সংস্কার করে আধুনিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা, অতি দ্রুত সময়ের মধ্যে খেলার মাঠ সংস্কারের যথাযথ উদ্যোগ গ্রহণ, কলেজ ক্যাম্পাসে একটি মানসম্মত ক্যান্টিন স্থাপন, বিজ্ঞান ক্লাব ও বিতর্ক (ডিবেটিং) ক্লাব গঠন করা, সপ্তাহে অন্তত একদিন শিক্ষার্থীদের শরীরচর্চা ও খেলাধুলার আয়োজনের ব্যবস্থা করানো,বিভিন্ন জাতীয় দিবসে প্রতিযোগিতায় শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা ও অংশগ্রহন বাড়াতে মানসম্মত ও আকর্ষণীয় পুরস্কারের ব্যবস্থা, ক্যাম্পাসে ক্লাস-পরীক্ষা চলাকালীন সকল ধরনের রাজনৈতিক ও অরাজনৈতিক সভা-সমাবেশ এবং শো-ডাউন বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা,
ক্যাম্পাসে র্যাগিং, শিক্ষার্থী নিপীড়ন ও জোর করে শিক্ষার্থীদের দলীয় মিছিল-মিটিং এবং শো-ডাউনে অংশগ্রহণ করতে যারা বাধ্য করবে তাদের বিরুদ্ধে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা, প্রতিষ্ঠানের সম্পদ যদি বে-দখল থাকে তাহলে অতি দ্রুত সেগুলো কে দখলমুক্ত করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ, প্রতি ৬ মাস পর সকল অভিভাবকের অংশগ্রহণে অভিভাবক সমাবেশের আয়োজন, জুলাই-২৪ এর ছাত্র-জনতার বিপ্লবকে স্মরণীয় রাখতে ছবি, সাহিত্য ও ম্যাগাজিন প্রকাশ করে বছরে অন্তত একবার অনুষ্ঠানের আয়োজন করা, কলেজে দীর্ঘদিন কাজ করা বেসরকারি কর্মচারীদের স্থায়ী নিয়োগের ব্যবস্থা, রাতে ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ও সৌন্দর্য বর্ধনের জন্য পুরো ক্যাম্পাসে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা নিশ্চিত করা এবং কলেজ চলাকালীন সময়ে কলেজের শিক্ষকদের টিউশনি/কোচিং বন্ধ করতে হবে।
সরকারি মাহ্তাব উদ্দিন কলেজ ছাত্রশিবিরের সভাপতি হুসাইন আহমেদ বলেন, স্বৈরাচারী আওয়ামী শাসনামলে বাংলাদেশের প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকে সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস করে দেয়া হয়। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে তৈরি করা হয় ফ্যাসিবাদী মনস্তত্ত্ব উৎপাদন ও অপশাসন কায়েমের ক্যান্টনমেন্ট হিসেবে।
ক্যাম্পাসগুলোতে শিক্ষার পরিবেশ ব্যাহত
করে চলেছে শিক্ষার্থী নিপীড়ন। শিক্ষার্থীদের ক্যাম্পাস পরিণত হয়েছিল ছাত্রলীগ-আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়ে। দলীয় রাজনীতি ও পদলেহন ছাড়া ক্যাম্পাসের সমস্যা নিরসনে কলেজ প্রশাসনের কোনো কার্যকরী পদক্ষেপ অতীতে দেখা যায়নি।
তাই ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশে একটি বৈষম্যহীন ও নিরাপদ ক্যাম্পাস বিনির্মাণের লক্ষ্যে প্রয়োজন যথাযথ পরিকল্পনা ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ, মৌলিক সংকট চিহ্নিত করে দ্রুততম সময়ে পরিকল্পনা গ্রহণ ও তা বাস্তবায়ন করার মধ্য দিয়ে এই ক্যাম্পাস সত্যিকার অর্থেই শিক্ষার্থীদের প্রাণের ঠিকানা হয়ে উঠবে এটাই সকলের প্রত্যাশা।