ঝিনাইদহ প্রতিনিধি
ঝিনাইদহের ডিসির বিরুদ্ধে সারের ডিলার নিয়োগে দুর্নীতির অভিযোগ জামায়াতের, দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলে পদত্যাগের দাবি।ঝিনাইদহে বিসিআইসি সারের ডিলার নিয়োগে সীমাহীন দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি ও আওয়ামীকরণের অভিযোগ তুলে জেলা প্রশাসক মো. নোমান হোসেন প্রিন্সের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। বিতর্কিত সারের ডিলার নিয়োগ বাতিল করে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় নতুন নিয়োগের দাবিতে আজ রোববার (১৮ অক্টোবর) সকালে ঝিনাইদহ শহরের পায়রা চত্বরে জেলা জামায়াতের উদ্যোগে এক মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
পূর্বঘোষিত আলটিমেটাম অনুযায়ী আয়োজিত দেড় ঘণ্টাব্যাপী এ কর্মসূচিতে জেলার ছয়টি উপজেলা থেকে দলটির শত শত নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ অংশ নেন।
সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ঝিনাইদহ-২ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা জামায়াতের আমির আলী আজম মো. আবু বকর বলেন, “কৃত্রিম সারসংকট তৈরি করে সাধারণ কৃষকদের জিম্মি করার উদ্দেশ্যেই সারের ডিলার নিয়োগে নজিরবিহীন দুর্নীতি ও ব্যাপক আওয়ামীকরণ করা হয়েছে। অতীত ফ্যাসিবাদী আমলের ডিলারদের কারণে কৃষকেরা এমনিতেই দিশেহারা।” তিনি অবিলম্বে বিতর্কিত সার-বীজ মনিটরিং কমিটি এবং দলীয় বিবেচনায় দেওয়া সব ডিলারশিপ বাতিল করে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় নতুন নিয়োগের জোর দাবি জানান।
সমাবেশে বক্তব্য প্রদানকালে জেলা প্রশাসকের ভূমিকা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি আব্দুল হাই। তিনি অভিযোগ করে বলেন, জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ও জেলা পরিষদকে অভ্যন্তরীণ সিন্ডিকেটের মাধ্যমে আত্মীয়স্বজনের যোগসাজশে দুর্নীতি ও অনিয়মের আখড়ায় পরিণত করা হয়েছে। এ সময় তিনি জেলা প্রশাসককে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলে পদ ছেড়ে দেওয়ার আহ্বান জানান। পাশাপাশি তিনি তীব্র কটূক্তি ও অবমাননাকর ভাষায় কথা বলেন।
আব্দুল হাই আরও হুঁশিয়ারি দেন যে, জেলা প্রশাসন অবিলম্বে নিজেদের সংশোধন না করলে ও স্বজনপ্রীতি বন্ধ না করলে দুর্নীতির বিরুদ্ধে আরও কঠোর ও বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।
প্রতিবাদ সমাবেশে অন্যান্যের মধ্যে আরও বক্তব্য দেন জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির ও সম্ভাব্য পৌর মেয়র প্রার্থী আব্দুল আলিম, ঝিনাইদহ-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. মতিয়ার রহমান, ঝিনাইদহ-৪ আসনের সংসদ সদস্য আবু তালেব, জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি আব্দুল আউয়াল এবং সদর উপজেলা জামায়াতের আমির ড. হাবিবুর রহমানসহ জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ।


