ঝিনাইদহ প্রতিনিধি
ঝিনাইদহ সদর উপজেলায় চার বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণ এবং পরবর্তীতে অর্থের বিনিময়ে সালিসের মাধ্যমে ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টার অভিযোগে চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) দুপুরে আসামিদের আদালতে তোলা হলে বিচারক তাঁদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—ঝিনাইদহ সদর উপজেলার বাসিন্দা শুকুর আলী মণ্ডল (৬৮), তাঁর দুই ছেলে মো. রেজাউল মণ্ডল (৪২) ও মো. তিজারত মণ্ডল (৩৯) এবং শুকুর আলীর ভাই আব্দুর রহমান (৬৫)। এর আগে বুধবার (১৪ অক্টোবর) রাতে ভুক্তভোগী শিশুর মা বাদী হয়ে ঝিনাইদহ সদর থানায় ধর্ষণ ও সহায়তার অভিযোগে মামলাটি দায়ের করেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১৩ অক্টোবর সকালে শিশুটি প্রতিবেশী শুকুর আলী মণ্ডলের বাড়িতে যায়। বাড়িটি নির্জন থাকার সুযোগে সিঁড়িতেই শিশুটিকে ধর্ষণ করেন শুকুর আলী। এ সময় শিশুটির চিৎকার ও কান্নাকাটি শুনে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে তাকে উদ্ধার করেন এবং স্বজনদের খবর দেন। স্থানীয়রা অভিযুক্ত শুকুর আলীকে আটকে রাখার চেষ্টা করলে তাঁর দুই ছেলে ও ভাই তাকে পালিয়ে যেতে সাহায্য করেন। পরবর্তীতে শুকুর আলীর ভাই আব্দুর রহমান ঘটনাটি পুলিশ পর্যন্ত না গড়িয়ে সালিসের মাধ্যমে নিষ্পত্তি ও ধামাচাপা দিতে ভুক্তভোগীর পরিবারকে অর্থের প্রলোভন দেখান।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ঝিনাইদহ জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অর্থ ও প্রশাসন) শেখ বিল্লাল হোসেন জানান, ভুক্তভোগী শিশুর মায়ের অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ দ্রুত অভিযান চালিয়ে প্রধান অভিযুক্ত শুকুর আলীকে আটক করে। পরবর্তীতে ঘটনা ধামাচাপা দেওয়া ও আসামিকে পালাতে সহযোগিতার অপরাধে বাকি তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। আজ (বৃহস্পতিবার) আদালতের মাধ্যমে তাঁদের জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
ঝিনাইদহ কোর্ট পুলিশের সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) চিরঞ্জীব জানান, আসামিদের আদালতে সোপর্দ করা হলে বিজ্ঞ আদালত জামিন নামঞ্জুর করে তাঁদের কারাগারে প্রেরণের নির্দেশ দেন।