ঝিনাইদহের মাঠে সোনালি ধানের ঢেউ, আমন আবাদে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়াল

ঝিনাইদহের মাঠে সোনালি ধানের ঢেউ, আমন আবাদে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়াল

সাইফুল ইসলাম

Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!

মাঠজুড়ে এখন সোনালি ধানের সমারোহ। বাতাসে দুলছে পাকা আমন ধান, কোথাও চলছে ধান কাটার প্রস্তুতি, কোথাও ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকেরা। অনুকূল আবহাওয়া ও রোগবালাইয়ের আক্রমণ তুলনামূলক কম থাকায় চলতি মৌসুমে ঝিনাইদহে আমন ধানের বাম্পার ফলনের আশা জাগছে। এরই মধ্যে জেলার ছয় উপজেলায় আমন আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অতিরিক্ত ১০০ হেক্টর জমিতে আবাদ হওয়ায় কৃষি খাতে নতুন সম্ভাবনা দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি আমন মৌসুমে ঝিনাইদহের ছয় উপজেলায় ১ লাখ ৪ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে আমন আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে কৃষকদের আগ্রহ ও অনুকূল পরিস্থিতির কারণে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অতিরিক্ত ১০০ হেক্টর জমিতে আবাদ হয়েছে। ফলে এবার জেলায় মোট ১ লাখ ৪ হাজার ৬০০ হেক্টর জমিতে আমন ধানের চাষ হয়েছে।

উপজেলাভিত্তিক হিসাব অনুযায়ী, ঝিনাইদহ সদরে ২৫ হাজার ২৫২ হেক্টর, শৈলকুপায় ২৪ হাজার ৯৫৫ হেক্টর, কালীগঞ্জে ১৮ হাজার ৭৩৪ হেক্টর, মহেশপুরে ১৮ হাজার ১৫৫ হেক্টর, হরিণাকুন্ডুতে ১১ হাজার ২৩২ হেক্টর এবং কোটচাঁদপুরে ৬ হাজার ১৮২ হেক্টর জমিতে আমন ধানের আবাদ হয়েছে। ছয় উপজেলার মধ্যে সবচেয়ে বেশি আবাদ হয়েছে ঝিনাইদহ সদর উপজেলায়।

ইতোমধ্যে জেলার বিভিন্ন এলাকায় আগাম জাতের আমন ধান পাকতে শুরু করেছে। কোনো কোনো জমিতে ধান কাটা শুরু করেছেন কৃষকেরা। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে আগামী দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যে জেলার অধিকাংশ মাঠে পুরোদমে ধান কাটার মৌসুম শুরু হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

হরিণাকুন্ডু উপজেলার রামচন্দ্রপুর গ্রামের কৃষক আব্দুর রাজ্জাক জানান, তিনি তিন বিঘা জমিতে আগাম জাতের আমন ধানের আবাদ করেছেন। ধান পাকার পর ইতোমধ্যে কাটা শুরু করেছেন। তবে সময়মতো পর্যাপ্ত সার পেলে ফলন আরও ভালো হতো বলে মনে করেন তিনি।

একই উপজেলার মান্দারতলা গ্রামের কৃষক শামসুল আলম এখন ধানের শেষ মুহূর্তের পরিচর্যায় ব্যস্ত। পাকা ধান ঘরে তোলার আগে জমিতে প্রয়োজনীয় কীটনাশক প্রয়োগসহ বিভিন্ন কাজ করছেন তিনি।

হরিণাকুন্ডু উপজেলার আহাদনগর গ্রামের কৃষক ও স্কুলশিক্ষক নওশের আলী বলেন, শিক্ষকতার পাশাপাশি তিনি এবার পাঁচ বিঘা জমিতে আমন ধানের আবাদ করেছেন। ধান রোপণের পর থেকে নিয়মিত পরিচর্যা করায় জমিতে রোগবালাইয়ের আক্রমণ তেমন দেখা যায়নি। আবহাওয়াও অনুকূলে ছিল। বর্তমান অবস্থা দেখে তিনি ভালো ফলনের আশা করছেন।

ঝিনাইদহ সদর উপজেলার বংকিরা গ্রামের কৃষক মাহবুব হোসেন বলেন, তিনি এবার চার বিঘা জমিতে আমন ধানের আবাদ করেছেন। এর মধ্যে তিন বিঘা জমির ধান এখনো পাকার অপেক্ষায় রয়েছে। আগাম রোপণ করা কিছু জমিতে ধান কাটা শুরু হয়েছে। আবহাওয়া স্বাভাবিক থাকলে আগামী দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যে বাকি জমির ধান কাটতে পারবেন বলে আশা করছেন তিনি।

জেলা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, মৌসুমের শুরু থেকেই আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ধানের গাছের বৃদ্ধি ভালো হয়েছে। সারের সরবরাহ নিয়ে কিছুটা সমস্যা থাকলেও বড় ধরনের সংকটে পড়তে হয়নি কৃষকদের। মাঠপর্যায়ে কৃষি কর্মকর্তারা নিয়মিত পরিদর্শনের পাশাপাশি ধানের পরিচর্যা, সার প্রয়োগ ও রোগবালাই দমনে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিয়েছেন। ফলে অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার ধানের খেতে রোগবালাইয়ের আক্রমণও কম দেখা গেছে।

হরিণাকুন্ডু উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আব্দুল মোমিন বলেন, আমন আবাদে কৃষকদের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা ও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এ বছর উপজেলায় ধানের আবাদ ভালো হয়েছে। আবহাওয়ার বড় ধরনের বিপর্যয় না ঘটলে কৃষকেরা সময়মতো ধান কেটে ঘরে তুলতে পারবেন। ফলনও ভালো হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

ঝিনাইদহ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. কামরুজ্জামান বলেন, আমন মৌসুমের শুরু থেকেই জেলার ছয় উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা ও উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা মাঠপর্যায়ে কৃষকদের সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করেছেন। নিয়মিত জমি পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। চলতি মৌসুমে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ধানের বৃদ্ধি ভালো হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, সারের সরবরাহ পর্যাপ্ত থাকলেও ব্যবস্থাপনাগত ঘাটতির কারণে কোনো কোনো কৃষক চাহিদা অনুযায়ী সার পাননি। ধান পাকার আগ পর্যন্ত জমির পরিচর্যায় কৃষকদের সতর্ক থাকতে হবে। ধানের শিষ বা গাছের ক্ষতিকর পোকামাকড় এবং রোগবালাইয়ের লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। পাশাপাশি আবহাওয়ার পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে ধান কাটার প্রস্তুতি রাখতে হবে।

সব মিলিয়ে চলতি মৌসুমে ঝিনাইদহে আমন আবাদে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাওয়ায় কৃষি খাতে ইতিবাচক সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এখন কৃষকদের অপেক্ষা সোনালি ফসল ঘরে তোলার। শেষ সময়ে বড় ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে ভালো ফলনের মধ্য দিয়ে মৌসুম শেষ হবে—এমন প্রত্যাশা কৃষক ও কৃষি বিভাগের।

আরো পড়ুন
Vp 1793617579
Sadi 20261102165333
Jinaidoho 1
বাল্যবিবাহ রোধে ঝিনাইদহে ‘তারুণ্যের কণ্ঠ’ প্রামাণ্য অনুষ্ঠান
পুকুরে ডুবে
ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়
Scroll to Top