সাইফুল ইসলাম, ঝিনাইদহ-
নিয়োগ বাণিজ্যে মোজাম্মেল চেয়ারম্যানের নাম ঘিরে তোলপাড়, সহকারী প্রধান শিক্ষক সোহেল রানা সাময়িক বরখাস্ত। ঝিনাইদহ সদর উপজেলার উত্তর নারায়ণপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক সোহেল রানা নানা অভিযোগে লিখিতভাবে সাময়িক বরখাস্ত হয়েছেন। বুধবার সকালে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, ম্যানেজিং কমিটি ও শিক্ষক–কর্মচারীদের জরুরি সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। একই সঙ্গে ৩ সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করে ২১ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
অভিযোগে বলা হয়, বিদ্যালয়ের বেশ কয়েকটি নিয়োগ প্রক্রিয়ায় ৩ নং সাগান্না ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও বিদ্যালয়ের সাবেক সভাপতি শেখ মোজাম্মেল হোসেন এর নাম জড়িত। সভায় সোহেল রানা নিজেই স্বীকার করেন, নিয়োগের সময় তিনি চেয়ারম্যানকে মোটা অঙ্কের টাকা দিয়েছেন।
এছাড়া প্রথমবার ১ লাখ ৭০ হাজার ও দ্বিতীয়বার ৩০ হাজার টাকা সিসি ক্যামেরা কেনা ও স্থাপনের কাজে ব্যয়ের হিসাবও দিতে ব্যর্থ হন তিনি।
শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও স্থানীয়রা জানান, সোহেল রানা দীর্ঘদিন ধরে নারী শিক্ষার্থীর সঙ্গে অশোভন আচরণ, সহকর্মীদের অপমান ও শারীরিক লাঞ্ছনা, শিক্ষার্থীদের মারধর এবং কর্মচারীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করে আসছেন। গত সোমবার সিনিয়র শিক্ষক আব্দুল লতিফ হোসেনকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেওয়ার ঘটনা ক্ষোভ আরও বাড়িয়ে দেয়। এর প্রতিবাদে মঙ্গলবার বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং স্থানীয় সুশীল সমাজ মানববন্ধন করেন।
তবে তদন্ত কমিটির জন্য ২১ দিনের সময় নির্ধারণ করায় সাবেক শিক্ষার্থী ও স্থানীয় সুশীল সমাজের অনেকে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তাদের দাবি, এত গুরুতর অভিযোগের সমাধান দ্রুততম সময়ে হওয়া উচিত। দীর্ঘ সময় নিয়ে সিদ্ধান্ত হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তারা।
সভায় উপস্থিত ছিলেন প্রধান শিক্ষক আবু দাউদ, উত্তর নারায়ণপুর মডেল দাখিল মাদ্রাসার সুপার আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ, এডহক কমিটির সভাপতি আরশাদ আলী, ৩ নং সাগান্না ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও বিদ্যালয়ের সাবেক সভাপতি আলাউদ্দিন আল মামুন, ডাকবাংলা ত্রিমহনী চাউল কল মালিক সমিতির সভাপতি আক্তার ভান্ডারী, ডাকবাংলা বাজার দোকান মালিক সমিতির সভাপতি ও সাধুহাটি ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি আব্দুর রহমান কামাল, এদিকে সাধুহাটি ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শরিফুল ইসলাম, সাগান্না ইউনিয়ন যুবদল নেতা হাবিবুর রহমান, জহিরুল ইসলাম, আলামিন, আব্দুর সালেকসহ স্থানীয় বিশিষ্টজনেরা। সভায় সবাই অভিযোগের তীব্র নিন্দা জানিয়ে দ্রুত তদন্ত শেষ করে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান।