কাশ্মীরে বিধ্বস্ত বিমানের অংশবিশেষ ফরাসি কোম্পানির তৈরি, হতে পারে রাফাল

ডেস্ক রিপোর্ট

কাশ্মীরে বিধ্বস্ত বিমানের অংশবিশেষ ফরাসি কোম্পানির তৈরি, হতে পারে রাফাল। সিএনএন-এর ব্র্যাড লেন্ডনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারত-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে বিধ্বস্ত যুদ্ধবিমানের অংশবিশেষের ছবিতে একটি ফরাসি প্রস্তুতকারকের লেবেল দেখা গেছে। পাকিস্তান দাবি করছে, ভারতের তিনটি অত্যাধুনিক রাফাল যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করেছে তারা। কাশ্মীরে বিমানের ধ্বংসাবশেষের ছবিতে তাদের দাবিই জোরালো হলো।

বার্তা সংস্থা এএফপিতে প্রকাশিত ছবিগুলোর মধ্যে বিমানের একটি অংশের লেবেলে ফরাসি পরিস্রাবণ (ফিলট্রেশন) কোম্পানি লো বোজেক এ গতিয়েখ-এর নির্মিত বিমানের যন্ত্রাংশের নাম দেখা যায়। লো বোজেক যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের ডোনাল্ডসন কোম্পানির ফরাসি সহযোগী প্রতিষ্ঠান।

২০০৫ সালে লো বোজেক অধিগ্রহণের সময় ডোনাল্ডসন কোম্পানির একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ফরাসি এই কোম্পানি ‘বিমান ও হেলিকপ্টারের বায়ু, জ্বালানি, হাইড্রোলিক ফ্লুইড এবং বায়ুচাপ ব্যবস্থাপনার জন্য পরিস্রাবণ সরঞ্জাম ডিজাইন, উৎপাদন ও বিক্রি করে।’

অবশ্য এ তথ্য সিএনএন স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি। ছবিতে দেখানো অংশটি রাফাল জেটের কিনা অথবা পাকিস্তান বিমান ভূপাতিত করেছে কিনা তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে না।

একটি বিমানের ধ্বংসাবশেষের লেবেলে ফরাসি কোম্পানির নাম রয়েছে। ছবি: এএফপি
একটি বিমানের ধ্বংসাবশেষের লেবেলে ফরাসি কোম্পানির নাম রয়েছে। ছবি: এএফপি

বার্তা সংস্থা রয়টার্স কাশ্মীরে স্থানীয় সরকারের চারটি সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, তিনটি বিমান বিধ্বস্ত হয়েছে। পাকিস্তানে ভারতের হামলার সময়ই এটি ঘটে। তবে বিমানগুলো এমনিতেই বিধ্বস্ত হয়েছে নাকি ভূপাতিত করা হয়েছে সেটি পরিষ্কার নয়।

রাফাল যুদ্ধবিমানের প্রস্তুতকারক ফ্রান্সের ড্যাসল্ট অ্যাভিয়েশন।

ভারতীয় বিমানবাহিনীতে ৩৬টি রাফাল জেট রয়েছে। এই যুদ্ধবিমানগুলোর প্রথম অর্ডার দেওয়া হয়েছিল ২০১৬ সালে এবং এগুলো ২০২০ সাল থেকে আসা শুরু করে। সেই সময় ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং দাবি করেছিলেন যে নতুন এই জেটগুলো ‘বিশ্বের অন্যতম সেরা’ এবং এটি ভারতীয় বিমানবাহিনীকে ‘আমাদের দেশের ওপর আসা যেকোনো হুমকি মোকাবিলায় আরও শক্তিশালী’ করবে।

গত এপ্রিলে, ভারত ফ্রান্সের সঙ্গে আরও ২৬টি রাফাল জেট কেনার জন্য ৭.৪ বিলিয়ন ডলারের একটি চুক্তি স্বাক্ষর করেছে, যা ২০৩০ সাল থেকে সরবরাহ করা হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এই জেটগুলো সম্পর্কে যা জানা যায়:

প্রস্তুতকারকের মতে, এই জেটগুলো এক বা দুই আসনের হয়ে থাকে এবং এগুলোতে আকাশ থেকে আকাশে, আকাশ থেকে ভূমিতে এবং জাহাজবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্রের পাশাপাশি একটি ৩০ মিমি কামানও যুক্ত করা যায়।

ড্যাসল্ট এভিয়েশন আরও জানায়, রাফালের ফ্লাইট কন্ট্রোল সিস্টেমে এমন সক্ষমতা রয়েছে, যার মাধ্যমে এটি সব আবহাওয়ায় ভূখণ্ড অনুসরণ করে স্বয়ংক্রিয়ভাবে উড়তে পারে।

তবে রাফাল স্টিলথ জেট নয়, অর্থাৎ এটি রাডার ফাঁকি দিতে পারে না। তবে এটিকে রাডারে সহজে ধরা যায় না এমন কম দৃশ্যমান বৈশিষ্ট্যযুক্ত হিসেবে প্রচার করা হয়। এটির একটি বিশেষ সুবিধা হলো — যুদ্ধকালীন অভিজ্ঞতা।

ড্যাসল্ট এভিয়েশনের ওয়েবসাইট অনুসারে, ফরাসি বাহিনী কর্তৃক চালিত রাফাল আফগানিস্তান, লিবিয়া, মালি, ইরাক এবং সিরিয়ার অভিযানে ব্যবহৃত হয়েছে।

আরো পড়ুন
সবচেয়ে বেশি হীরা উত্তোলন করা দেশগুলো
আরো পড়ুন
ট্রাম্প-পুতিন বৈঠক
আরো পড়ুন
জম্মু-কাশ্মীরের কুলগামে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ ২ ভারতীয় সেনা নিহত
আরো পড়ুন
ইরান বিভিন্ন ক্ষেত্রে গোয়েন্দা ব্যর্থতার কারণে শোচনীয় পরাজয় বরণ করতে হয়েছে। ১৯৭৯ সালের ইরানি জিম্মি সংকট, ১৯৮০ সালের অপারেশন ঈগল ক্ল, এবং ইসরায়েলের পারমাণবিক নথি তেহরানে চলে যাওয়া - এই ঘটনাগুলো ইরানি গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর দুর্বলতা এবং ব্যর্থতার উদাহরণ। এই সব ঘটনায় ইরান বিভিন্ন দিক থেকে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে. ইরানের গোয়েন্দা ব্যর্থতার উদাহরণ: **ইরান জিম্মি সংকট (Iran Hostage Crisis): ১৯৭৯ সালে তেহরানে ৬৬ জন মার্কিন নাগরিককে জিম্মি করে রাখা হয় এবং তাদের মধ্যে ৫২ জনকে এক বছরেরও বেশি সময় ধরে জিম্মি করে রাখা হয়। এই সংকট ইরানি বিপ্লবের পর দেখা দেয়। এই সংকট ছিল একটি আন্তর্জাতিক সংকট, যেখানে ইরানি গোয়েন্দা সংস্থাগুলো তাদের দুর্বলতা এবং ব্যর্থতা প্রমাণ করে. **অপারেশন ঈগল ক্ল (Operation Eagle Claw): ১৯৮০ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইরানের জিম্মিদের উদ্ধারের জন্য একটি অভিযান চালায়, যা অপারেশন ঈগল ক্ল নামে পরিচিত। এই অপারেশনে দুটি হেলিকপ্টার যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে এগিয়ে যেতে পারেনি এবং একটি ধূলিঝড়ের কারণে দৃশ্যমানতা হ্রাস পায়। এই কারণে পুরো দলটিকে দেরিতে অবতরণ করতে হয় এবং অভিযানটি ব্যর্থ হয়. **ইসরায়েলের পারমাণবিক নথি তেহরানে চলে যাওয়া: সম্প্রতি ইসরায়েলের পারমাণবিক স্থাপনার নথি তেহরানে চলে যাওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এই ঘটনা ইরানি গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর ব্যর্থতার আরও একটি উদাহরণ, যেখানে তাদের দুর্বলতার কারণে গোপন তথ্য ফাঁস হয়ে গেছে. **ইসরাইলের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার প্রস্তুতি: কিছু তথ্য থেকে জানা গেছে যে, ইসরাইল ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে। এই তথ্য ইরানের গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর দুর্বলতা এবং ব্যর্থতার ইঙ্গিত দেয়. এই সব ঘটনা প্রমাণ করে যে, ইরানের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো তাদের কাজ সঠিকভাবে করতে পারেনি এবং তাদের দুর্বলতা বিভিন্ন ক্ষেত্রে দৃশ্যমান হয়েছে। এই দুর্বলতার কারণে ইরান বিভিন্ন ক্ষেত্রে শোচনীয় পরাজয় বরণ করতে হয়েছে.
আরো পড়ুন
ভারতের মহাকাশ অভিযান ব্যর্থ, মাঝপথে বাতিল মিশন-রকেট ধ্বংস
আরো পড়ুন
ইসরায়েলি হামলায় গাজায় ৪৮ ঘণ্টায় নিহত ২০০, ঘরছাড়া ৩ লাখ
আরো পড়ুন
Scroll to Top