ডেস্ক রিপোর্ট:
তামিলনাড়ু বিধানসভায় এক উত্তপ্ত বক্তব্যে বিরোধী ডিএমকের বিরুদ্ধে তীব্র রাজনৈতিক আক্রমণ চালিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী ও অভিনেতা থেকে রাজনীতিতে আসা থালাপতি বিজয়। আইনশৃঙ্খলা, দুর্নীতি, নারীর সম্মান, মাদক নিয়ন্ত্রণ এবং রাজনৈতিক সংস্কৃতি নিয়ে কথা বলার পাশাপাশি তিনি ডিএমকের অতীত ও বর্তমান নেতৃত্বের বিরুদ্ধেও একের পর এক অভিযোগ তুলে ধরেন।
প্রায় ৪০ মিনিটের বক্তব্যের শুরুতেই বিজয় বলেন, একটি-দুটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা দিয়ে পুরো রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে ব্যর্থ বলা যায় না। তাঁর সরকারের লক্ষ্য পুলিশ ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী ও আধুনিক করা। পুলিশে শূন্যপদ পূরণ এবং বিভাগকে ডিজিটাল ব্যবস্থার আওতায় আনার কথাও জানান তিনি। দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির কথাও স্পষ্ট করেন।
এরপরই বক্তব্যের সুর আরও কঠোর হয়ে ওঠে। ডিএমকের বিরুদ্ধে অতীতের দুর্নীতির অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি সারকারিয়া কমিশনের রিপোর্ট, ভীরানাম প্রকল্প এবং সাম্প্রতিক TASMAC-সংক্রান্ত ইডির নথি তুলে ধরেন। তাঁর দাবি, ডিএমকের রাজনৈতিক ইতিহাসের কয়েক দশক খতিয়ে দেখে অনিয়মের তথ্য সামনে আনা হবে। তিনি বলেন, ডিএমকের ‘পুরোনো ভাবমূর্তি’ ভেঙে দিতে তিনি অতীতের ঘটনাগুলো গভীরভাবে খতিয়ে দেখবেন।
বক্তব্যের সবচেয়ে আলোচিত মুহূর্ত আসে যখন বিজয় নিজের রাজনৈতিক উত্থানকে দক্ষিণ ভারতের তিন ঐতিহাসিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের সঙ্গে তুলনা করেন। তাঁর বহুল আলোচিত বক্তব্য:
“১৯৬৭, ১৯৭৭, ১৯৮২, ২০২৬ আন্না, এমজিআর, এনটিআর, বিজয়।”
এর মাধ্যমে তিনি বোঝাতে চান, আন্নাদুরাই, এমজিআর ও এনটিআর যেভাবে প্রচলিত রাজনৈতিক শক্তির বাইরে থেকে নতুন রাজনৈতিক পরিবর্তন এনেছিলেন, ২০২৬ সালের নির্বাচনে তাঁর উত্থানও তেমন একটি রাজনৈতিক পরিবর্তনের সূচনা।
ডিএমকের ‘MISA’ প্রসঙ্গ নিয়েও বিজয়ের একটি অঙ্গভঙ্গি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক ভাইরাল হয়। পরে এই অঙ্গভঙ্গি নিয়ে বিতর্ক তৈরি হলে বিজয় জানান, সেটি কাউকে ব্যক্তিগতভাবে আঘাত করার উদ্দেশ্যে করা হয়নি।
নারীদের নিয়ে কুরুচিপূর্ণ ও ব্যক্তিগত মন্তব্যের বিরুদ্ধেও কঠোর অবস্থান নেন বিজয়। তিনি বলেন, রাজনৈতিক সমালোচনা যত কঠিনই হোক, নারীদের অপমান বা অশালীন ভাষায় আক্রমণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। নারীর মর্যাদা রক্ষায় আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও তিনি স্পষ্ট করেন।
একপর্যায়ে ডিএমকের সদস্যরা বিজয়ের বক্তব্যের প্রতিবাদে বিধানসভার ওয়েলে নেমে আসেন এবং স্লোগান ও পোস্টার প্রদর্শন করেন। বিরোধী দলীয় নেতা উদয়নিধি স্ট্যালিন তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের জবাব দেওয়ার সুযোগ চান। পরে ডিএমকের সদস্যরা ওয়াকআউট করেন।
বিজয়ের পুরো বক্তব্যের সারকথা ছিল একটাই: আইনশৃঙ্খলা ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান, নারীর সম্মান রক্ষা এবং পুরোনো রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিবর্তন। একই সঙ্গে ডিএমকের দীর্ঘ রাজনৈতিক ইতিহাসকে সামনে এনে তিনি নতুন রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে নিজের অবস্থান আরও স্পষ্ট করেছেন।
আর তাঁর সবচেয়ে আলোচিত বার্তাটি যেন স্পষ্টভাবেই ছিল “অতীতের রাজনৈতিক পরিবর্তনের ইতিহাসে আন্না, এমজিআর ও এনটিআরের পর ২০২৬ সালে নতুন অধ্যায়ের নাম বিজয়।”